রোদ-গরম উপেক্ষা করে দেব নামলেন ময়দানে। তৃণমূলের হেভিওয়েট এই স্টার ক্যাম্পেনারকে একঝলক দেখতে মানুষের ঢল নামল বনগাঁ দক্ষিণ থেকে বেলেঘাটা পর্যন্ত। কিন্তু এই প্রচার-সফর কেবল স্লোগান আর করমর্দনেই সীমাবদ্ধ থাকল না; দিনভর দেবকে ঘিরে ঘটে গেল অভাবনীয় সব কাণ্ড। যার রেশ এখন ছড়িয়ে পড়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়।
চাঁদপুরের কন্যার স্বপ্নভঙ্গ ও দেবের আশ্বাস:
সবথেকে বড় আবেগঘন মুহূর্তটি তৈরি হয় চাঁদপুরে। সেখানকার এক তরুণী ভক্তের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ছিল দেবের পাশে দাঁড়িয়ে একটা ছবি তোলা। গত কয়েক মাস ধরে তিল তিল করে নিজেকে প্রস্তুত করেছিলেন তিনি। কিন্তু ভাগ্য সহায় হয়নি। ছবি তোলার আগেই দেবের হেলিকপ্টার ডানা মেলে আকাশে। প্রিয় নায়ককে ধরাছোঁয়ার বাইরে যেতে দেখে মানসিক চাপ সামলাতে পারেননি ওই যুবতী, মাঠেই জ্ঞান হারান তিনি।
এই দৃশ্য দেবের নজর এড়ায়নি। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিওটি দেখে বিচলিত দেব দ্রুত ওই ভক্তকে আশ্বস্ত করে বার্তা দেন। দেব লেখেন, ‘আমি ঋতুপর্ণাকে (বনগাঁ দক্ষিণের প্রার্থী) বলে দিয়েছি, ৪ তারিখের পর তোমাকে নিয়ে আমার অফিসে আসতে। ভালো থেকো, দেখা হবে খুব তাড়াতাড়ি।’ নায়কের এই মানবিকতায় এখন ধন্য ধন্য করছে নেটপাড়া।
মঞ্চ থেকে পড়লেন ২ ফোটোগ্রাফার:
দুর্ঘটনা ঘটল বারাসাত ও অশোকনগর এলাকাতেও। দেবের একটি পারফেক্ট শট নিতে গিয়ে হুড়োহুড়িতে মঞ্চ থেকে সরাসরি নিচে পড়ে যান ২ ফোটোগ্রাফার। পরিস্থিতি দেখে রীতিমতো মাথায় হাত দেবের! তবে ঘাবড়ে না গিয়ে দ্রুত প্রচার থামিয়ে নিজে তাঁদের উদ্ধারে এগি য়ে আসেন তারকা। তাঁর এই উপস্থিত বুদ্ধি আর সহমর্মিতা দেখে স্তম্ভিত স্থানীয় জনতা। তাঁরা ঠিক আছেন আশ্বস্ত হওয়ার পরই স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেন দেব।

প্রচার যখন জনসমুদ্র:
এদিন দেবের প্রচারসূচি ছিল ঠাসা। বনগাঁ দক্ষিণ, বসিরহাট দক্ষিণ, বারাসাতের অশোকনগর, দেগঙ্গা এবং সবশেষে কলকাতার বেলেঘাটা। প্রতিটি কেন্দ্রেই দেবের রোড-শো বা জনসভা জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছিল। কোথাও মানুষ বাড়ির ছাদ থেকে আবির ছুড়ছেন, কোথাও আবার ‘পাগলু’ গানের তালে নাচছেন সমর্থকরা।
বিরাজমান ‘দেব’ ম্যাজিক:
ভোটের রাজনীতিতে দেব কেবল একজন সাংসদ নন, তিনি টলিউডের সুপারস্টারও। আর তাই তাঁর প্রচারে রাজনৈতিক উত্তাপের চেয়েও বেশি ধরা পড়ল অনুরাগীদের আবেগ। একদিকে জ্ঞান হারানো ভক্তকে অফিসে ডাকার প্রতিশ্রুতি, আর অন্যদিকে পড়ে যাওয়া চিত্রগ্রাহকদের পাশে দাঁড়ানো— দেব বুঝিয়ে দিলেন কেন তিনি আজও বাংলার মানুষের ‘হার্টথ্রব’।