তামিলনাড়ুর রাজধানী চেন্নাইয়ে বৃহস্পতিবার একের পর এক বোমা হামলার হুমকি দেওয়া হয়। এর জেরে গোটা শহর জুড়ে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। উচ্চ সতর্কতাও জারি করেছে। জানা গিয়েছে, আলওয়ারপেটে মুখ্যমন্ত্রী এমকে স্ট্যালিনের ব্যক্তিগত বাসভবনকে লক্ষ্য করে একটি বেনামি ইমেলে বোমা বিস্ফোরণের হুমকি দেওয়া হয়েছিল। এরপরই পুলিশ এবং বোমা নিষ্ক্রিয়কারী বাহিনী পুরো এলাকায় তল্লাশি চালায়। একইভাবে বিজেপির রাজ্য সদর দফতর (টি নগর) এবং দক্ষিণ ভারতীয় অভিনেত্রী তৃষার তেনামপেটে বাড়িতেও হুমকি দেওয়া হয়েছিল বোমা বিস্ফোরণের।
হুমকির মুখে চেন্নাই রাজভবনকেও টার্গেট করা হয়েছিল। পুলিশ সব জায়গায় তল্লাশি অভিযান শুরু করে। গত এক মাসে মুখ্যমন্ত্রী স্ট্যালিনকে পরপর বেশ কয়েকটি হুমকি দেওয়া হয়েছিল। এমনকী ১৫ অগস্ট পতাকা উত্তোলন অনুষ্ঠানের আগেও, তাঁকে বোমা দিয়ে উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছিল। ওই মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছিল গণেশ নামের এক ব্যক্তিকে। জুলাই মাসেও চেন্নাই পুলিশের কন্ট্রোল রুমে একটি ফোন আসে যেখানে ফোন করা বিনোদ কুমার নামে এক ব্যক্তি দাবি করেছিল যে মুখ্যমন্ত্রীর বাড়িতে বোমা লাগানো হয়েছে। তবে সেই হুমকিও মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছিল।
তার আগে ২০২৪ সালে, স্ট্যালিন যে বিমানে করে মার্কিন মুবুকে পাড়ি দিচ্ছিলেন, তাতে বোমার হুমকি দেওয়া হয়েছিল। সেই ঘটনার পর চেন্নাই বিমানবন্দরে তল্লাশি অভিযান চালানো হয়েছিল। তদন্তের পর সেই মামলাটিও ভুয়ো বলে ঘোষণা করা হয়। তার আগে গত ২০২৩ সালের অগস্টেও মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনে বোমা থাকার ভুয়ো হুমকি দেওয়া হয়েছিল।

এদিকে, গত সপ্তাহে টিভিকে প্রধান এবং অভিনেতা-রাজনীতিবিদ বিজয়ের বাড়িতে বোমা মারার হুমকি দেওয়া হয়েছিল। কারুরে বিজয়ের রাজনৈতিক সমাবেশে পদপিষ্ট হয়ে ৪১ জন নিহত হওয়ার পরে এই হুমকি দেওয়া হয়েছিল। শনিবার পদপিষ্ট হওয়ার সেই ঘটনার পরে বিজয় চেন্নাইয়ের নীলাঙ্করাই বাসভবনে ফিরে গিয়েছিলেন। এরপরেই তাঁর বাড়ির নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছিল। স্থানীয় পুলিশের পাশাপাশি সিআরপিএফ জওয়ানদেরও মোতায়েন করা হয়েছিল বিজয়ের বাড়িতে। এই ক্রমাগত হুমকি পুলিশ বিভাগকে সতর্ক মোডে রেখেছে। বর্তমানে সব ধরনের হুমকি তদন্ত করে পুলিশ বলছে, দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।