বাংলাদেশে শুয়োরের মাংস আমদানি করতে চেয়েছিল মহম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার – এমনই অভিযোগ উঠল। চুক্তির বিষয়টি পুরোপুরি গোপনে রাখা হয়েছিল বলেও অভিযোগ উঠেছে। বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম দৈনিক কালবেলার প্রতিবেদন অনুযায়ী, আমেরিকার সঙ্গে অ্যাগ্রিমেন্ট অন রেসিপ্রোকাল ট্রেড স্বাক্ষর করেছিলেন ইউনুসরা। আর সেই চুক্তির আওতায় এমন কয়েকটি শর্ত ছিল, যা বাংলাদেশের অর্থনীতিতে সমূহ বিপদ ডেকে আনত। কারণ বাংলাদেশে পর্যাপ্ত পরিমাণে উৎপাদিত হয়, এমন জিনিসও আমেরিকার থেকে আমদানির বিষয়ে রাজি হয়ে গিয়েছিল ইউনুস সরকার। অর্থাৎ দরকার না থাকলেও ইউনুসরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিভিন্ন পণ্য আমদানি করতে রাজি হয়ে গিয়েছিলেন।
নিষিদ্ধ তালিকায় আছে শুয়োরের মাংস
তবে সবথেকে বেশি বিতর্ক শুরু হয়েছে শুয়োরের মাংস আমদানি করার বিষয়টা নিয়ে। কারণ বাংলাদেশের আমদানি নীতি সংক্রান্ত যে নির্দেশিকা আছে, তাতে শুয়োর ও শুয়োরজাত সমস্ত পণ্য আনার উপরে নিষেধাজ্ঞা আছে। অর্থাৎ সরকারের নিষিদ্ধ তালিকায় আছে শুয়োরের মাংস। মুসলিমপ্রধান বাংলাদেশে সেই শুয়োরের মাংস আমদানি করতে রাজি হওয়ার ইউনুসের বিরুদ্ধে ক্ষোভের মাত্রা বেড়েছে।
নতুন বাংলাদেশ সরকার কী করবে?
যদিও এখন আর বাংলাদেশে ইউনুস সরকার নেই। তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার শুয়োরের মাংস আমদানি করতে চায় না বলে জানানো হয়েছে। ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশের বাণিজ্য মন্ত্রকের ভারপ্রাপ্ত সচিব মহম্মদ আবদুর রহিম খান জানিয়েছেন, শুয়োরের মাংস যেমন নিষিদ্ধ ছিল, তেমনই থাকছে। ইউনুসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন যে চুক্তি করে গিয়েছে, তার ফলে শুয়োরের মাংসের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা উঠছে না।

ট্রাম্পের সামনে আত্মসমর্পণ বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের?
আর পুরো বিষয়টি নিয়ে ইউনুস বা ইউনুসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সদস্যরা আপাতত কোনও মন্তব্য করেননি। তবে একটি অংশের বক্তব্য, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক খাঁড়ার মুখে সেই চুক্তি করেছিল ইউনুসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। শুল্ক নিয়ে মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পরে আমেরিকার সঙ্গে করা ইউনুসের চুক্তির কোনও ভিত্তি নেই বলে সংশ্লিষ্ট মহলকে উদ্ধৃত করে ওই প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।