বিজেপির জাতীয় মুখপাত্র পদ থেকে ইস্তফা দিলেন শেহজাদ পুনাওয়ালা। সঙ্গে তিনি দলও ছেড়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে রিপোর্টে। ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে তিনি দলের শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন বলে একাধিক সূত্রে জানা গিয়েছে। যদিও বিজেপির পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত এই বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি। ফলে তাঁর ইস্তফা ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা শুরু হয়েছে।
শেহজাদ পুনাওয়ালা দীর্ঘদিন ধরে বিজেপির অন্যতম পরিচিত মুখ ছিলেন। বিভিন্ন টেলিভিশন বিতর্ক, সংবাদমাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি দলের অবস্থান জোরালোভাবে তুলে ধরতেন। কংগ্রেস এবং বিশেষ করে রাহুল গান্ধীকে আক্রমণ করে তাঁর একাধিক মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স (আগের টুইটার)-এ নিজের প্রোফাইলেও পরিবর্তন এনেছেন পুনাওয়ালা। তাঁর বায়ো থেকে বিজেপির জাতীয় মুখপাত্র পরিচয় সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে সেখানে এখনও নিজেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘আজীবনের অনুগামী’ বলে উল্লেখ করেছেন। বৃহস্পতিবার তিনি এই পরিবর্তন করলেও, এর কারণ সম্পর্কে প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করেননি।
রাজনৈতিক জীবনের শুরুতে শেহজাদ পুনাওয়ালা কংগ্রেসের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ২০১৭ সালে কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে প্রকাশ্যে প্রশ্ন তোলার পর দলের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের অবনতি ঘটে। পরে তিনি কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেন। বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর অল্প সময়ের মধ্যেই তাঁকে জাতীয় মুখপাত্রের দায়িত্ব দেওয়া হয়।
দলের হয়ে তিনি নিয়মিত সংবাদমাধ্যমে বক্তব্য রাখতেন এবং বিভিন্ন জাতীয় ইস্যুতে বিজেপির অবস্থান তুলে ধরতেন। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তিনি অত্যন্ত সক্রিয় ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নীতির সমর্থনে এবং বিরোধীদের সমালোচনায় তাঁর ধারালো বক্তব্য বারবার শিরোনামে এসেছে।
সূত্রের দাবি, ব্যক্তিগত কারণেই তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে ঠিক কী কারণে তিনি এই পদক্ষেপ নিলেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়। বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব কিংবা শেহজাদ পুনাওয়ালার পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।
তাঁর ইস্তফা এমন এক সময়ে সামনে এল, যখন জাতীয় রাজনীতিতে বিজেপি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। ফলে দলের অন্যতম পরিচিত মুখের এই পদত্যাগ স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনার জন্ম দিয়েছে। এখন দেখার, বিজেপি এই শূন্যস্থান কীভাবে পূরণ করে এবং শেহজাদ পুনাওয়ালার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ কোন দিকে এগোয়।
