‘আমাদের সময় সোশ্যাল মিডিয়া ছিল না বলেই…’

Spread the love

এই বছর দুর্গাপুজোয় পরপর চারটি ছবি একসঙ্গে মুক্তি পাওয়ায় বক্স অফিসে কোনও ছবিই সেইভাবে সাফল্য অর্জন করতে পারেনি। ছবিগুলি হয়তো একসাথে মুক্তি না পেলে আরও কিছুটা অর্থ উপার্জন অতিরিক্ত হতো বক্স অফিসে, কিন্তু সেটা হয়নি। এই ছবিগুলির মধ্যে একটি ছবি ছিল প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের ‘দেবী চৌধুরানী’।

দীর্ঘ তিন দশকের কেরিয়ারে প্রায় সাড়ে চারশোর বেশি ছবিতে অভিনয় করেছেন তিনি। একদিকে যেমন সাফল্য দেখেছেন তেমন অন্যদিকে দেখেছেন পরাজয়। নতুন প্রজন্মের নায়ক নায়িকাদের উদ্দেশ্যে তাই কিছু পরামর্শ দিতে শোনা যায় অভিনেতাকে।

সম্প্রতি এবিপিকে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে যখন প্রসেনজিৎকে প্রশ্ন করা হয়, সব ছবি যে বক্স অফিসে সাফল্য আনবে তা কিন্তু হয় না। তাহলে এই ব্যর্থতা কীভাবে দেখেন অভিনেতা? প্রশ্নের উত্তরে প্রসেনজিৎ বলেন, ‘অভিজ্ঞতা এবং সময়ের একটা দাম আছে। আমার এমন সময় গিয়েছে যখন আমার তিন বছর হাতে কোনও কাজ ছিল না। তখন একটা বুদ্ধদেব দাশগুপ্ত, গৌতম ঘোষ বাড়িতে ঋতুপর্ণ ঘোষের ছবি করেছি।’

বুম্বাদা বলেন, ‘আমি আমার ছেলেকেও একটা কথা বলি জীবনের সফলতা এলে তাকে সঙ্গে নিয়ে বাঁচতে চেও না। আবার কখনও অসফলতা এলে ভেঙেও পড়বে না। সবসময় শেখার চেষ্টা করবে। যদি ব্যর্থ হও তাহলে নিজেকে আবার ভেঙে চুরে নতুনভাবে গড়ে নেওয়ার চেষ্টা করবে।’

নতুন প্রজন্মের অভিনেতা-অভিনেত্রীরা সাফল্য নিয়ে কি খুব বেশি অধৈর্য জিজ্ঞাসা করাই তিনি বলেন, ‘আজ থেকে ৩০ বছর আগে সোশ্যাল মিডিয়ার এত বাড়াবাড়ি ছিল না। তখন শিল্পীদের মাথায় এত চাপ ছিল না। সবাই নিজেদের মতো করে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার চেষ্টা করেছেন। ‘অমর সঙ্গী’ আর ‘গুরুদক্ষিণা’ একসঙ্গে মুক্তি পেয়েছিল এবং দুটি ছবিই বক্স অফিসে রেকর্ড তৈরি করেছিল।’

সবশেষে অভিনেতা বলেন, ‘তখন গুরুদক্ষিণা এবং অমর সঙ্গী দুটি ছবি ৫০ সপ্তাহ চলেছিল। সিনেমাকে সিনেমার মতো আসতে দিতে হবে। আমার মনে হয় এখন সোশ্যাল মিডিয়ার চাপটা অতিরিক্ত বহন করতে হচ্ছে শিল্পীদের, যার ফলে সমস্যা তৈরি হচ্ছে।’

প্রসঙ্গত, প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের এই ইন্টারভিউয়ের ভিডিয়ো শেয়ার করেছেন তাঁর ছেলে তৃষানজিৎ চট্টোপাধ্যায়। কিছুদিনের মধ্যেই প্রসেনজিৎ পুত্রকেও দর্শকরা দেখতে পাবেন বড় পর্দায়। আপাতত তিনি নিজের প্রথম ছবির জন্য নিজেকে প্রস্তুত করছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *