সেনা জওয়ান ও স্ত্রীকে প্রকাশ্যে মারধর

Spread the love

সিউড়ি শহরের কালীপুজো ঘিরে এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা সামনে এসেছে। চাঁদা চাওয়ার জেরে রীতিমতো রাস্তায় টানাহ্যাঁচড়া ও মারধরের শিকার হলেন এক সেনা জওয়ান এবং তাঁর স্ত্রী। আক্রান্ত সেনা জওয়ান গোপীনাথ দত্ত, বর্তমানে জম্মু-কাশ্মীরে কর্মরত। পুজোর ছুটিতে বাড়ি ফিরেছিলেন। সন্তানকে ডাক্তার দেখাতে স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে সিউড়িতে এসেছিলেন তিনি। কিন্তু, সেখানে আক্রান্ত হন তিনি।

জানা যাচ্ছে, বুধবার, বড়বাগান এলাকায় টোটো করে যাওয়ার পথে তাঁদের পথ আটকায় স্থানীয় এক পুজো কমিটির অন্তত দশ থেকে বারো যুবক। অভিযোগ, তাঁরা কালীপুজোর চাঁদা দাবি করে। গোপীনাথ জানান, তাঁরা চাঁদা দিতে অস্বীকার করেননি, বরং সন্তানের চিকিৎসা শেষ করে ফেরার সময় দেওয়ার কথা বলেন, কারণ তখন তাঁদের জরুরি তাড়া ছিল। কিন্তু কথা না শুনেই শুরু হয় বচসা। আর তারপরে বেধড়ক মারধর করা হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, প্রথমে অশ্রাব্য গালিগালাজ, তারপর টোটো থেকে নামিয়ে টানাহ্যাঁচড়া ও মারধর করা হয়। সেনা জওয়ানের স্ত্রীর হাতেও গুরুতর আঘাত লাগে। তাঁদের দু’টি মোবাইল ফোন সোজা ছুড়ে ফেলে ভেঙে দেওয়া হয়। গোপীনাথ প্রতিরোধ করতে গেলে তাঁকেও একাধিক যুবক মারধর করেন। সেনা জওয়ান বলেন, দেশের সেবা করতে গিয়ে প্রাণ দিতে পারেন, কিন্তু নিজের দেশের মাটিতে এমন অপমানের মুখোমুখি হবেন কখনও ভাবতে পারেননি। ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত পৌঁছয় সিউড়ি থানার পুলিশ। দম্পতিকে উদ্ধার করে সিউড়ি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা করানো হয়। রাতেই থানায় দায়ের হয় লিখিত অভিযোগ।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, একজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়েছে। জেলার পুলিশ সুপার আমনদীপ জানিয়েছেন, ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। দোষীদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঘটনার পর থেকেই ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন এলাকাবাসী। বহু মানুষ প্রশ্ন তুলেছেন, কালীপুজোর মতো আনন্দের উৎসব কি এভাবেই ‘চাঁদার আতঙ্কে’ রাস্তায় নেমে আসবে? ১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর অনিল দাস বলেছেন, চাঁদা নিয়ে এমন মারধর লজ্জাজনক। যারা করেছে, তাদের চিহ্নিত করে শাস্তি চাই। তবে তিনি স্বীকার করেছেন, আজই শুনলাম চাঁদা তোলা শুরু হয়েছে। বিষয়টি তাঁর জানা ছিল না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *