বাংলায় কর্মসংস্থানের অভাবকে হাতিয়ার করে তৃণমূলের বিরুদ্ধে প্রচার চালিয়েছে বিজেপি। বেকার ভাতা বাড়িয়ে ৩০০০ টাকা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তারা। আবার অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারে ৩০০০ টাকা ভাতার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে গেরুয়া শিবির। আর এছাড়া সম্প্রতি সংসদে মহিলা সংরক্ষণ বিলের বিরোধিতা করায় তৃণমূলকে ‘মহিলা বিরোধী’ আখ্যা দিচ্ছে বিজেপি। এই সবের মাঝেই আজ প্রথম দফার নির্বাচন নিয়ে পশ্চিমবঙ্গকে বিশেষ বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
আজ সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে ভোটারদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বার্তা দেন, ‘পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোট গ্রহণ আজ। আমি সমস্ত নাগরিককে পূর্ণ উদ্যমে গণতন্ত্রের এই উৎসবে অংশগ্রহণ করার আহ্বান জানাই। আমি বিশেষভাবে আমার তরুণ বন্ধুদের এবং পশ্চিমবঙ্গের মহিলাদের বিপুল সংখ্যায় ভোট দেবার জন্য অনুরোধ করছি।’
উল্লেখ্য, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, কণ্যাশ্রীর মতো একাধিক জনমুখী প্রকল্পের কারণে পশ্চিমবঙ্গের মহিলা ভোটাররা অনেকটাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকে ঝুঁকে থাকেন বলে মনে করা হয়। এদিকে মমতার এই লক্ষ্মীর ভাণ্ডার স্কিম অন্যান্য রাজ্যে আমদানি করে সেখানে সুফল পেয়েছে বিজেপি বা অন্যান্য শাসকদলও। মহারাষ্ট্র, মধ্যপ্রদেশের মতো রাজ্যে মহিলা ভোটারদের নিজেদের দিকে টেনে ক্ষমতা ধরে রাখতে সফল হয়েছে গেরুয়া শিবির। আবার পড়শি রাজ্য ঝাড়খণ্ডে এই একই কাজ করে ক্ষমতায় টিকে থেকেছেন হেমন্ত সোরেন। এই আবহে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারে ভাতা বাড়িয়ে বাংলার মহিলা ভোটারদের মন জয় করতে চেয়েছে বিজেপি। এবং এবারের ভোটে তৃণমূলকে হারাতে যে যুব সমাজ এবং মহিলা ভোটাররাই যে তুরুপের তাস হবে, তা জানে বিজেপি। এই আবহে নিছক ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে মোদীর এই পোস্টের গভীরে রয়েছে গভীর এক রাজনৈতিক বার্তাও।

এদিকে আজ প্রথম দফার ভোটের দিনই রাজ্যে আসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। দ্বিতীয় দফার নির্বাচনের প্রচারে কৃষ্ণনগর এবং মথুরাপুরে দু’টি জনসভা করার কথা নরেন্দ্র মোদীর। তার পরে হাওড়ায় একটি রোড শো-ও করার কথাও রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।