আয়াতুল্লাহ খামেনি বাঙ্কারে লুকিয়ে নেই: কনসাল জেনারেল

Spread the love

নিষেধাজ্ঞা এবং ক্রমবর্ধমান যুদ্ধবাজ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হুমকির মধ্যে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী হোসেইনি খামেনিকে নিরাপত্তা দেয়া হচ্ছে এবং তিনি কোনো বাঙ্কারে লুকিয়ে নেই। মুম্বাইয়ে দেশটির কনসাল জেনারেল এসব কথা বলেছেন।শনিবার (২৪ জানুয়ারি) এনডিটিভির সাথে একান্ত আলাপকালে, মুম্বাইয়ে ইরানের কনসাল জেনারেল সাইদ রেজা মোসায়েব মোতলাগ বলেন, বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থাগুলো তার দেশে বিক্ষোভ উস্কে দিয়েছে এবং নিষেধাজ্ঞার হুমকি সত্ত্বেও ইরান ও ভারত উভয়ই তাদের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার চেষ্টা করছে।

কূটনীতিক বলেন, আপনারা জানেন যে, ইরান একটি অভ্যন্তরীণ সংকটের মুখোমুখি হচ্ছে। আমি অবশ্যই বলব যে নিরাপত্তা বাহিনী বিক্ষোভকারীদের প্রতি নমনীয়তা এবং আত্মনিয়ন্ত্রণ দেখিয়েছিল।

তিনি দাবি করেন, ‘বিক্ষোভের সময় যখন সন্ত্রাসী উপাদানগুলো ইরানের বাইরে থাকা তাদের প্রভু এবং মনিবদের কাছ থেকে নির্দেশ পেয়েছিল, তখন তারা ষড়যন্ত্র শুরু করে এবং বড় এবং ছোট শহরগুলোতে বিভিন্ন জায়গায় নাশকতা চালায়। এই বিষয়টি আমাদের কিছু নাগরিকের মধ্যে আতঙ্কের সৃষ্টি করে এবং তাদের সম্পত্তির ক্ষতি করে, পাশাপাশি সরকারি সম্পত্তিরও ক্ষতি হয়। দুর্ভাগ্যবশত, ওই সময় মোট ৩,১১৭ জন নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে ২,৪২৭ জন শহীদ বেসামরিক নাগরিক এবং নিরাপত্তা বাহিনী এবং ৬৯০ জন বিক্ষোভকারীরও রয়েছেন।’


মোতলাগ বলেন, যদিও বিক্ষোভে বিদেশি নাগরিকরা জড়িত ছিলেন না, অথবা খুব কম শতাংশই ছিলেন, ইরান সরকারের কাছে তথ্য আছে যে, বেশ কয়েকজন বিক্ষোভকারীকে বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থা প্রশিক্ষণ দিয়েছে, তারা প্রশিক্ষকদের কাছ থেকে নির্দেশনা পেয়েছে অথবা বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়া সংবাদ তাদেরকে প্রভাবিত করেছে।


এই অঞ্চলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপ, যার মধ্যে একটি বিমানবাহী রণতরী স্ট্রাইক গ্রুপ পাঠানোর বিষয়টি আছে, সে সম্পর্কে প্রশ্নের জবাবে কূটনীতিক ঘোষণা করেন যে, ইরান সম্পূর্ণরূপে প্রস্তুত।

‘ইরান বহু বছর ধরে বিদেশি নিষেধাজ্ঞার মুখোমুখি হচ্ছে এবং তা প্রতিরোধ করছে, সেগুলো প্রতিরোধ করার ক্ষমতাও দেখিয়েছে তেহরান।’ বলেন তিনি।

এদিকে, খামেনি জনসমক্ষে উপস্থিত হওয়া এবং বাঙ্কারে লুকিয়ে থাকার অভিযোগ সম্পর্কে কূটনীতিক বলেন, সর্বোচ্চ নেতা ভিডিও কনফারেন্সিং এবং অন্যান্য মাধ্যমে কর্মকর্তাদের সাথে প্রয়োজনীয় সকল বৈঠক করছেন।

তিনি বলেন, আমরা কোনো বিদেশি শক্তিকে ভয় পাই না। কিছু লোক গুজব ছড়াচ্ছে। এটা স্বাভাবিক যে তার মতো সম্মানিত ব্যক্তিকে অবশ্যই অন্য যেকোনো দেশের মতো নিরাপত্তা কর্মীদের সুরক্ষিত রাখতে হবে। তবে, কেউ এটা যেন না ভাবে  তিনি কোনো বাঙ্কার বা আশ্রয়স্থলে লুকিয়ে আছেন।

গত ডিসেম্বরে অর্থনৈতিক সংকট থেকে বিক্ষোভ শুরু হয় ইরানে। পরে তা সরকার পতনের বিক্ষোভে পরিণত হয়। 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *