মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের খারগ দ্বীপ এবং অন্যান্য তেল অবকাঠামো ‘দখল’ করবে। এজন্য বৃহস্পতিবার (১১ জুন) ইরানে কঠোর আঘাত করবে ওয়াশিংটন।ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যাল-এ লিখেছেন, ‘অদূর ভবিষ্যতে কোনো এক সময়ে, আমরা খারগ দ্বীপ এবং অন্যান্য তেল অবকাঠামো দখল করে নেব এবং তাদের তেল ও গ্যাস বাজারের ওপর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করব।’
কিন্তু এই খারগ দ্বীপটি কী — এবং ট্রাম্প কেন এটি ‘দখল’ করতে চান?
ইরানের উপকূলের এই প্রবাল দ্বীপটি তেহরানের জন্য একটি অর্থনৈতিক লাইফলাইন, যা সাধারণত দেশটির অপরিশোধিত তেল রপ্তানির প্রায় ৯০ শতাংশ পরিচালনা করে।
ম্যানহাটনের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ আকারের এই দ্বীপটিকে মার্কিন কর্মকর্তারা ‘ইরানের সমস্ত তেল সরবরাহের কেন্দ্রবিন্দু’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এর দীর্ঘ জেটিগুলো দ্বীপের চারপাশের জলে প্রসারিত, যা তেলবাহী সুপারট্যাঙ্কার ধারণ করার মতো যথেষ্ট গভীর, ফলে দ্বীপটি তেল বিতরণের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্থান।’
সিএনএন এর আগে জানিয়েছে যে, কর্মকর্তারা খারগ দ্বীপ দখল করা অথবা এর তেল অবকাঠামো কার্যকরভাবে নিশ্চিহ্ন করার লক্ষ্যে বোমা হামলার অনুমোদন দেয়ার বিভিন্ন বিকল্প তৈরি করেছেন। প্রশাসন প্রণালীটির নিকটবর্তী অন্যান্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ দ্বীপগুলো দখল করার সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখেছে, যা এই জলপথ দিয়ে চলাচলকারী ট্যাংকারগুলোর জন্য হুমকি সৃষ্টির ক্ষেত্রে ইরানের সক্ষমতাকে দুর্বল করে দিতে পারে।

সিএনএন জানিয়েছে, হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তারা মনে করেন যে দ্বীপটি দখল করা হলে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) সম্পূর্ণ দেউলিয়া হয়ে যাবে।
এক মার্কিন কর্মকর্তার মতে, যুক্তরাষ্ট্র এপ্রিলে বলেছিল যে, তারা এই দ্বীপের সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে, যদিও সেই হামলায় কোনো তেল স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু ছিল না।এদিকে, ট্রাম্প এর আগে বলেছিলেন যে খারগ তার অগ্রাধিকারের তালিকায় শীর্ষে নেই। কিন্তু তার নির্বাচিত হওয়ার কয়েক দশক আগে, ১৯৮৮ সাল থেকেই তিনি দ্বীপটি দখলের কথা বলে আসছেন।