মহারাষ্ট্র রাজ্যের লাতুর জেলায় ৮৯ বছর বয়সি এক বৃদ্ধা তার নাতি ও প্রপৌত্রকে দেওয়া তিন হেক্টর কৃষিজমির মালিকানা পুনরায় ফিরে পেয়েছেন। ভূসম্পত্তি সম্পর্কিত এক ট্রাইব্যুনাল রায় দিয়ে জমি হস্তান্তরের দলিল (গিফট ডিড) বাতিল করে তার সম্পত্তির অধিকার পুনর্বহাল করেছে।
মামলার নথি অনুযায়ী, বৃদ্ধা হৌসাবাই লাহাড়ে রাজ্যের লাতুর জেলার কাসরা গ্রামের প্রায় ৩ হেক্টর (সাড়ে সাত একর) কৃষিজমি একটি নিবন্ধিত গিফট ডিডের মাধ্যমে তার নাতি ও প্রপৌত্রের নামে লিখে দেন। বিনিময়ে তারা বৃদ্ধার দেখাশোনা করবে এবং বার্ধক্যে তাকে সহায়তা করবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল।
তবে পরে ওই বিধবা নারী অভিযোগ করেন যে, নাতি ও প্রপৌত্র তাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেনি এবং তার যথাযথ ভরণপোষণ ও যত্ন নেয়নি। এরপর তিনি ২০০৭ সালের ‘মেইনটেন্যান্স অ্যান্ড ওয়েলফেয়ার অব প্যারেন্টস অ্যান্ড সিনিয়র সিটিজেনস অ্যাক্ট’ আইনের অধীনে সিনিয়র সিটিজেন ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দায়ের করেন।
গত ১৮ মার্চ মাসে মামলায় রায় দেয় ট্রাইব্যুনাল। রায়ে উল্লেখ করে, যখন কোনো প্রবীণ ব্যক্তি তার সম্পত্তি যত্ন ও ভরণপোষণের শর্তে অন্যের কাছে হস্তান্তর করেন, তখন সেই দায়িত্ব শুধু নৈতিক নয়, আইনগতভাবেও বাধ্যতামূলক। ট্রাইব্যুনালের সভাপতিত্বকারী কর্মকর্তা রোহিনী নারহে-ভিরোল বলেন, গিফট ডিডের শর্ত লঙ্ঘিত হয়েছে। তাই দলিলটি বাতিল করার যথেষ্ট কারণ রয়েছে।
রায়ে সংশ্লিষ্ট রাজস্ব কর্মকর্তাদের জমির নামজারি (মিউটেশন) সংক্রান্ত নথি বাতিল করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং নিবন্ধিত গিফট ডিডও বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। এর ফলে জমির ওপর বৃদ্ধার মালিকানা ও আইনগত অধিকার পুনরুদ্ধার হয়েছে।
ট্রাইব্যুনাল আরও নির্দেশ দিয়েছে যে, বিতর্কিত সময়কালে জমি থেকে পাওয়া যেকোনো সরকারি ভর্তুকি, ফসল বীমার অর্থ, আর্থিক সুবিধা বা অন্য কোনো লাভ সুদসহ ফেরত দিতে হবে। এছাড়া ভবিষ্যতে যাতে ওই সম্পত্তির ব্যবহারে কোনো বাধা বা হস্তক্ষেপ না করা হয়, তা নিশ্চিত করতেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রায়ে ট্রাইব্যুনাল জোর দিয়ে বলেছে, প্রবীণ ব্যক্তিদের সম্পত্তি হস্তান্তরের দলিলে ভরণপোষণ ও যত্নের শর্ত স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সিদ্ধান্তটি দেখিয়েছে যে, পরিবারের সদস্যদের যত্ন ও সহায়তার প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতে সম্পত্তি হস্তান্তর করা প্রবীণ নাগরিকদের জন্য আইনে শক্তিশালী সুরক্ষা রয়েছে।