টেলিভিশনের পর্দায় তিনি কখনো ‘মিঠাই’ ধারাবাহিকের ‘উচ্ছেবাবু’ (সিদ্ধার্থ), কখনো ‘মিত্তির বাড়ি’র নায়ক, আবার কখনো ‘কুমকুম’ ধারাবাহিকের ঈশান। তিনি বাংলা ছোটপর্দার হার্টথ্রব অভিনেতা আদৃত রায় (Adrit Roy)। এমনিতে নিজের ব্যক্তিগত জীবনকে লাইমলাইট থেকে দূরে রাখতেই পছন্দ করেন অভিনেতা। কিন্তু সম্প্রতি ‘কুমকুম’ ধারাবাহিকের সেটে এক সাক্ষাৎকারে নিজের জীবনের এমন এক ভয়ঙ্কর ও প্রাণঘাতী অধ্যায়ের কথা প্রথমবার ভাগ করে নিলেন, যা শুনে শিউরে উঠছেন ওঁর অনুরাগীরা।
টানা ১২ দিন আইসিইউ (ICU)-তে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে থেকে কীভাবে ফিরে এসেছেন, সেই দীর্ঘ লড়াইয়ের কথা প্রথমবার খোলসা করলেন আদৃত।
‘মিঠাই’ চলাকালীন অবহেলা, ‘মিত্তির বাড়ি’তে মারাত্মক রূপ ধারণ
টেলিভিশনের পর্দায় একটি ধারাবাহিক শেষ হওয়ার পর আদৃত কেন হঠাৎ কাজ থেকে বেশ কিছুদিন বিরতি নিয়েছিলেন, সেই প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়েই আসল সত্য সামনে আনেন অভিনেতা। অনেকেই ভেবেছিলেন তিনি হয়তো স্বেচ্ছায় ছুটি নিয়েছেন, কিন্তু আসলে চলছিল অন্য় লড়াই।
আদৃত টলি টাইমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জানান, ‘মিঠাই’ ধারাবাহিক চলাকালীনই কাজের চরম চাপ ও দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে শুটিং করার ফলে ওঁর পায়ে একটি ব্লাড ক্লট (Blood Clot) বা রক্ত জমাট বাঁধার সমস্যা ধরা পড়েছিল। প্রথমে সাধারণ চোট মনে করে বিষয়টিকে একেবারেই গুরুত্ব দেননি তিনি। কিন্তু আসল বিপর্যয় ঘটে যখন তিনি ‘মিত্তির বাড়ি’র শুটিং করছিলেন।
ঠিক কী ঘটেছিল?
অসুস্থতা চেপে রেখে শুটিং করার খেসারত দিতে হয়েছিল আদৃতকে। অভিনেতা জানান, পায়ে থাকা সেই ব্লাড ক্লটটি একসময় রক্ত সঞ্চালনের মাধ্যমে স্থান পরিবর্তন করে সরাসরি ওঁর ফুসফুসের ধমনীতে (Pulmonary Artery) গিয়ে আটকে যায়। এর ফলে ওঁর শ্বাস নিতে মারাত্মক কষ্ট শুরু হয় এবং অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক হয়ে পড়ে।
তড়িঘড়ি চিকিৎসকের কাছে গেলে ডাক্তাররা ওঁর অবস্থা দেখে স্তম্ভিত হয়ে যান এবং তৎক্ষণাৎ হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার নির্দেশ দেন। চিকিৎসকেরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন,‘আর মাত্র একটা দিন যদি হাসপাতালে আসতে দেরি হতো, তবে পরিস্থিতি পুরোপুরি হাতের বাইরে চলে যেত এবং জীবন বাঁচানো অসম্ভব হয়ে পড়ত।’
টানা ১২ দিন আইসিইউ-তে চিকিৎসা ও জীবনের বড় শিক্ষা
হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর পরিস্থিতি এতটাই জটিল ছিল যে আদৃতকে টানা ১২ দিন আইসিইউতে (ICU) রাখা হয়েছিল। সেখানে নিবিড় পর্যবেক্ষণে দীর্ঘ চিকিৎসার পর ওনাকে সাধারণ ওয়ার্ডে দেওয়া হয়। এই মরণাপন্ন পরিস্থিতির কারণেই ওনাকে বাধ্য হয়ে ক্যামেরার সামনে থেকে বেশ কিছুদিন সম্পূর্ণ বিরতি নিতে হয়েছিল।

এই ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতা ও জীবনযুদ্ধ থেকে এক মস্ত বড় শিক্ষা পেয়েছেন আদৃত। অভিনেতা বলেন, শুধু অন্ধের মতো কাজের পেছনে ছুটলেই হয় না, নিজের শরীরের দিকেও সমান নজর দেওয়া জরুরি। শরীর বারবার কোনো সতর্কবার্তা দিলে সেটিকে কখনোই অবহেলা করা উচিত নয়। ব্যস্ততার মাঝে নিজেকে সুস্থ রাখাই একজন মানুষের সবচেয়ে বড় সম্পদ। বর্তমানে আদৃত সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন এবং নতুন উদ্যমে ও নিয়মিতভাবে ‘কুমকুম’ মেগার শুটিং সামলাচ্ছেন।