আজ পশ্চিমবঙ্গের ১৫২টি বিধানসভা আসনে প্রথম দফায় ভোটগ্রহণ চলছে। এই আবহে নন্দীগ্রামে আজ ভোট দিয়েছেন বিদায়ী বিরোধী দলনেতা তথা বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী। আর ভোট দেওয়ার পরে শুভেন্দুর গলায় সেই ‘হিন্দুত্ববাদী কার্ড’। সংবাদমাধ্যমের সাথে কথা বলার সময় শুভেন্দু বলেন, ‘এবার পরিবর্তন আসবে। এবার বাংলায় যদি কোনও পরিবর্তন না আসে তবে রাজ্য থেকে সনাতন শেষ হয়ে যাবে।’
শুভেন্দু বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন ভালো কাজ করছে। কিন্তু এখনও কিছু গুন্ডা সর্বত্র ঘুরে বেড়াচ্ছে। আমাদের পোলিং এজেন্টকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই বিষয়ে অবিলম্বে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।’ নন্দীগ্রামের বিজেপি প্রার্থী আরও বলেন, ‘শান্তিপূর্ণ ভোটের জন্য প্রার্থনা করি আমি। আশা করি এবার তৃণমূল খুব বেশি বিঘ্ন ঘটাতে পারবে না। ভোটের আগের রাতটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই সময় শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য আমরা নির্বাচন কমিশন এবং কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীকে ধন্যবাদ জানাই।’
উল্লেখ্য, এদিন সকাল পৌনে সাতটা নাগাদ নিজের কেন্দ্র নন্দীগ্রামে ভোটাধিকার প্রয়োগের উদ্দেশে কাঁথির বাসভবন ‘শান্তিকুঞ্জ’ থেকে রওনা দেন শুভেন্দু। সেখানে গিয়ে টোটোয় চেপে নিজের কেন্দ্রে ভোট দিতে গিয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। সেই সময় শুভেন্দু বলেছিলেন, ‘তৃণমূল এবার খুব একটা উৎপাত করতে পারেনি, পারবেও না।’ এদিকে শুভেন্দু অধিকারীর অভিযোগ, পিংলার ওসি চিন্ময় প্রামাণিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিজেপি কর্মীদের ‘তুলে নিয়ে যাচ্ছেন’। এই আবহে ওসি-র অপসারণ এবং সাসপেনশনের দাবি তোলেন বিজেপি নেতা। এই নিয়ে ইতিমধ্যে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল এবং পুলিশ অবজার্ভারকে ফোন করেছেন বলেও জানান শুভেন্দু। নন্দীগ্রামে ভোট দিয়ে শুভেন্দু অভিযোগ করেন, সেখানে নাকি দুটি হিন্দু পাড়ার ভোটারদের ভোট দিতে দেওয়া হচ্ছে না। এদিকে বিনপুর ও খড়গপুরেও বিজেপি কর্মীদের হেনস্থা করা হচ্ছে বলে এদিন অভিযোগ করেন শুভেন্দু। এই আবহে বহু ভোটারের সঙ্গে ভিডিয়ো কলে কথা বলেন শুভেন্দু অধিকারী।

পরে বেলা গড়াতে তিনি বলেন, ‘আমাকে যা করেছিল একুশ সালের ভোটে, ১ এপ্রিল… তার বদলা সুদে-আসলে তুলে নিয়েছি। হিন্দুরা এবং মহিলারা একজোট হয়ে ভোট দিচ্ছেন। আমি কখনও দেখিনি বেলা ১২টার মধ্যে ৬০ শতাংশ ভোট পড়ে যেতে। বেঙ্গালুরু, কর্নাটক থেকে মানুষ এসে ভোট দিচ্ছেন।’ শুভেন্দু দাবি করেন, নন্দীগ্রামে ৫০টি বুথে তৃণমূলের কোনও এজেন্টই নেই।