‘২৯ তারিখ ভোটারদের স্পর্শ করলে বঙ্গোপসাগরে ফেলব।’ হুগলির বলাগড়ের সভামঞ্চ থেকে এমনই হুঙ্কার দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। হুগলির তাপমাত্রা ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছুঁইছুঁই। তবে বাংলার ভোটের উত্তাপ তার থেকেও বেশি। কপালের ঘাম মুছতে মুছতেই বৃহস্পতিবার হুগলির নির্বাচনী সভা থেকে তৃণমূল কংগ্রেসকে তীব্র আক্রমণ করে আমিত শাহ দাবি করেন, প্রথম দফার গতিপ্রকৃতি বলে দিচ্ছে বাংলায় বিজেপি পূর্ণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গড়তে চলেছে। তাঁর সাফ কথা, ৫ মে ফলাফল ঘোষণার দিনেই রাজ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শাসনের অবসান ঘটবে।
এদিন বলাগড়ের সভামঞ্চ থেকে অনুপ্রবেশ ইস্যুকে হাতিয়ার করে শাসক দলকে তীব্র আক্রমণ করেন অমিত শাহ। তিনি বলেন, ‘অনুপ্রবেশকারীরা বাংলার যুবকদের চাকরি কেড়ে নিচ্ছে, গরিবদের রেশনে ভাগ বসাচ্ছে এবং দেশের নিরাপত্তাকে বিঘ্নিত করছে। আমি গ্যারান্টি দিচ্ছি, বিজেপি ক্ষমতায় এলে একজন অনুপ্রবেশকারীও সীমান্ত পেরিয়ে বাংলায় ঢুকতে পারবে না। আর যারা ইতিমধ্যে অবৈধভাবে ঢুকে পড়েছে, তাদের বেছে বেছে বের করে দেওয়া হবে।’ ভোটারদের উদ্দেশে তিনি আহ্বান জানান, এই ভোট কেবল বিধায়ক নির্বাচন বা সরকার গড়ার জন্য নয়, বরং বাংলাকে অনুপ্রবেশকারীমুক্ত করার লড়াই। এদিন অনুপ্রবেশ ইস্যুই ছিল শাহের ভাষণের মূল সুর ছিল। তৃণমূলকে নিশানা করে তিনি বলেন, ‘৫ তারিখের পর অনুপ্রবেশকারীদের বাংলা থেকে তাড়াবে বিজেপি।’ অমিত শাহের দাবি, তৃণমূলের নেতা-মন্ত্রীরা অনুপ্রবেশকারীদের জামাই আদর করে ভোটার লিস্টে জায়গা করে দিয়েছে।
বলাগড় দু’টি জিনিসের জন্য বিখ্যাত। নৌকো আর আলু। এক সময়ে এই এলাকায় প্রচুর নৌকো তৈরির কারখানা ছিল। এখন বেশিরভাগই ধুঁকছে। অমিত শাহের কথায়, ‘তৃণমূল সরকারের জমানায় ৪১টি কারখানা বন্ধ হয়ে গিয়েছে। বিজেপি ক্ষমতায় এলে আমরা আবার সব কারখানা চালু করব।’ আলু চাষিরা পিএম কিষাণ নিধি সম্মান যোজনা প্রকল্পের সুবিধা পান না বলেও অভিযোগ করেন তিনি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কথায়, ‘এখানকার আলু চাষিরা বঞ্চিত। কোনও দিন দাম পান না। বিজেপি সরকার বলাগড়ের আলু বিহার, ঝাড়খণ্ড, ওড়িশায় পাঠাবে। বস্তা পিছু অন্তত ২৫ টাকা বেশি মিলবে।’ পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রীকে নিশানা করে তিনি বলেন, ‘মমতাকে টাটা করলে সিন্ডিকেটওয়ালাদের উল্টো ঝুলিয়ে সোজা করব। দিদির গুন্ডারা কান খুলে শুনে রাখ, ২৯ তারিখ ভোটারদের স্পর্শ করলে বঙ্গোপসাগরে ফেলব।’ বিজেপি জিতলে মুখ্যমন্ত্রী কে হবে, তারও ইঙ্গিত দেন শাহ। তবে সেই পুরোনো সুরেই। তাঁর কথায়, ‘বাংলা মিডিয়ামে পড়া, বাংলা বলা, বাংলার মাটির লোক মুখ্যমন্ত্রী হবেন। অন্য কেউ হবেন না।’দেশ থেকে মাওবাদীদের মুছে দেওয়া হয়েছে জানিয়ে জঙ্গিদের তোপ দাগেন তিনি। অমিত শাহের অভিযোগ, ‘কংগ্রেস, তৃণমূল, বামপন্থীরা জঙ্গিদের বিরিয়ানি খাওয়াত। বিজেপি সরকার এসে অপারেশন সিঁদুর করেছে।’ উরিতে সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের প্রসঙ্গও টানেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাফ কথা, ‘পদ্মে ভোট দিন। বাংলাকেও অনুপ্রবেশ মুক্ত করব। সোনার বাংলা হবে।’
