সদ্য শপথ নিয়েছেন রাজ্যের বিজেপি সরকারের ৫ মন্ত্রী। এদিকে, গত কয়েক দিনে শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন সরকারের তরফে একের পর এক পদক্ষেপ চলছে। তারই মধ্যে জানা যাচ্ছে, এবার থেকে মা ক্যান্টিনে মিলবে মাছ ভাতও। তবে কি আগের তৃণমূল সরকারের আমলে চালু হওয়া ডিম-ভাত, আর মা ক্যান্টিনের মেনুতে থাকবে না? বিষয়টি নিয়ে মুখ খুললেন রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ।
রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ বলেন,’ ডিম ভাত যেটা ৫ টাকায় ছিল, সেটা চালু থাকবে, তার সঙ্গে মাছও (মেনুতে) যুক্ত হবে। তার গুণগত মান ঠিকঠাক করা হবে। যাতে লোকজন খেতে পারেন।.. আরও বেশি জায়গায় করা যায় কি না… এটা গরিব মানুষদের জন্য ব্যবস্থা আছে, সেটাকে ঠিকঠাক করা।’ এরই সঙ্গে দিলীপ ঘোষ সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে বলেন,’ মুখ্যমন্ত্রী বলে দিয়েছেন, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ওটা চালু হয়ে যাবে।’ তাঁর কাছে প্রশ্ন যায়, এর দাম কি ৫ টাকাই থাকবে? উত্তরে দিলীপ ঘোষ বলেন,’ আপাতত ৫ টাকাই থাকবে। দেখা যাক, যদি মনে করা হয় বাড়াবার দরকার আছে, খরচা যদি বাড়ে, তাহলে সরকার ভাববে।’
ফলত, আপাতত ৫ টাকাতেই মিলবে এই মাছভাত। প্রসঙ্গত, এই মা ক্যান্টিন শুরু হয়েছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন সরকারের আমলে। সেই সময় আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া মানুষের জন্য এই ক্যান্টিন চালু হয়। সেখানে ৫ টাকায় দেওয়া হয় ডিম-ভাত। এল্প সময়ের মধ্যে এই ক্যান্টিন নিয়ে আলোচনাও হয়েছিল জনমানসে। তৃণমূলের দলীয় ট্যাগ লাইন ছিল ‘মা, মাটি, মানুষ’। আর এই ক্যান্টিনের নাম ‘মা’ ক্যান্টিন। নামের কি কোনও পরিবর্তদন ঘটবে, বিজেপি আমলে? আপাতত ক্যান্টিনের নাম পাল্টাচ্ছেনা বলেই ইঙ্গিত দিয়েছেন দিলীপ ঘোষ।

উল্লেখ্য, চলতি বছরে বাংলার ভোটে মাছ খাওয়াকে কেন্দ্র করে নির্বাচনী পারদ সরগরম হয়। তৃণমূল দাবি করেছিল, বিজেপি সরকার রাজ্যের ক্ষমতায় এলে, বাঙালির খাদ্যাভ্যাসে প্রভাব ফেলবে। সেক্ষেত্রে মাছ খাওয়া নিয়ে বিস্তর চর্চা হয়েছে ভোট প্রচার থেকে নির্বাচনী লড়াইয়ের মঞ্চে। এরপর ক্ষমতায় বিজেপি সরকার আসতেই মাছ ঘিরে একের পর এক আসর তাদের দলীয় কার্যালয়ে দেখা গিয়েছে। মাছভাত খাওয়ার অনুষ্ঠানও হয়েছে। এরপর রাজ্যের মা ক্যান্টিনে আসছে মাছ-ভাত।