এবিভিপি ও বামপন্থী ছাত্র সংগঠনের তীব্র সংঘর্ষ

Spread the love

আবারও অশান্তি দিল্লির জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়ে (জেএনইউ)। বুধবার রাতে জেএনইউ-তে স্কুল অফ সোশ্যাল সায়েন্সেসের একটি ছাত্র-বৈঠক চলছিল। সেখানেই বামপন্থী এআইএসএ অনুমোদিত ছাত্রদের সঙ্গে অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ (এবিভিপি)-র কর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষে উত্তাল হয়ে ওঠে ক্যাম্পাস। আর এই সংঘর্ষের জেরে আহত হয়েছে একাধিক ছাত্র-ছাত্রী। রাতভর টানটান উত্তেজনার পর বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত ক্যাম্পাসে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

সূত্রের খবর, ঘটনাটি ঘটে বিশ্ববিদ্যালয়ের সোশ্যাল সায়েন্স স্কুল ভবনে। সেখানে আগামী নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে অনুষ্ঠিত হতে চলা ছাত্র সংসদ নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশন গঠনের বিষয় নিয়ে আলোচনা চলছিল। সেই সভাতেই এক বামপন্থী কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে উত্তরপ্রদেশ ও বিহারের শিক্ষার্থীদের নিশানা করে আঞ্চলিক প্রসঙ্গ টেনে ‘আপত্তিকর ও অবমাননাকর’ মন্তব্য করার অভিযোগ তোলে ডানপন্থী ছাত্র সংগঠন অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ (এবিভিপি)। এবিভিপি-র সোশ্যাল সায়েন্স স্কুলের কাউন্সিলর অভিষেক রাই দাবি করেন, ‘সভায় একটি রিপোর্ট পড়া হচ্ছিল। তখনই এক বামপন্থী কাউন্সিলর বলেন, ‘উত্তরপ্রদেশ ও বিহার থেকে যারা এসেছে, তাদের জেএনইউ-তে থাকার যোগ্যতা নেই। তাদের অন্য কোথাও যাওয়া উচিত।’ এই মন্তব্যে সভায় প্রবল ক্ষোভ ছড়ায়। উপস্থিত ছাত্ররা ক্ষমা চাওয়ার দাবি তোলেন। কিন্তু মন্তব্যকারী কাউন্সিলর ও সভার চেয়ার- দুজনেই তা প্রত্যাখ্যান করলে হাতাহাতি শুরু হয়। তিনি আরও অভিযোগ করেন, ‘বাম ছাত্ররা আমাদের ছাত্রদের উপর চেয়ার ছুঁড়ে মারে, লাঠি নিয়ে আক্রমণ করে। একাধিক ছাত্রের মাথা ও পিঠে গুরুতর চোট লাগে।’

অন্যদিকে, এই ঘটনার প্রতিক্রিয়ায়, স্টুডেন্টস ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়া (এসএফআই) এবং অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন (এআইএসএ) এবিভিপির বিরুদ্ধে ‘গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ব্যাহত’ এবং বাম কর্মীদের ‘শারীরিকভাবে আক্রমণ’ করার অভিযোগ এনেছে। একজন এসএফআই নেতা অভিযোগ করেছেন, ‘সভা চলাকালীন এবিভিপি তাদের লক্ষ্যে পৌঁছাতে না পেরে সহিংসতার আশ্রয় নেয়। ছাত্রী-সহ আমাদের বেশ কয়েকজন সদস্য আহত হন।’ তবে এবিভিপি এই দাবির পাল্টা জবাব দিয়ে বলে, ‘বাম সদস্যরা গালিগালাজ এবং আঞ্চলিক অপবাদ দেওয়ার পরেই সংঘর্ষ শুরু হয়। আমরা সহিংসতার নিন্দা জানাই কিন্তু এই ধরনের আচরণ সহ্য করব না।’ বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সংঘর্ষে উভয় পক্ষের ছাত্র-ছাত্রীরা আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ক্যাম্পাসে পৌঁছয় এবং রাতভর সতর্কতা জারি রাখে। যদিও এখনও পর্যন্ত কোনও পক্ষই লিখিতভাবে অভিযোগ জমা দেয়নি, বলে জানিয়েছে প্রশাসন। বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত ক্যাম্পাসে পুলিশের নজরদারি বজায় রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। উভয় পক্ষের বক্তব্য পাওয়ার পরই প্রয়োজনে শৃঙ্খলাজনিত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেএনইউ-র ছাত্র সংসদ নির্বাচন

আগামী নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে জেএনইউ-র ছাত্র সংসদ নির্বাচন। আর সেই নির্বাচন উপলক্ষে নির্বাচন কমিশন গঠন করার সভাতেই এই উত্তেজনাপূর্ণ ঘটনা ঘটে। জেএনইউ-তে বরাবরই বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলির প্রভাব থাকলেও এবিভিপিও শক্ত প্রতিপক্ষ হিসেবে উঠে এসেছে সাম্প্রতিক বছরগুলিতে। নির্বাচনের আগে এমন সংঘর্ষ পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত করে তুলবে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *