বছর ঘুরলেই নির্বাচন বাংলায় বিধানসভা নির্বাচন। আর তার আগে এসআইআর তথা ভোটার তালিকায় স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন বা বিশেষ নিবিড় সংশোধন নিয়ে রাজ্যে বাড়ছে দাবদাহ। নির্বাচন কমিশন সূত্রে আগেই জানা গিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গে ২ নভেম্বর থেকে ভোটার তালিকায় নিবিড় সংশোধন শুরু হয়ে যেতে পারে। এই আবহে পাকিস্তানের করাচির বাসিন্দার চাঞ্চল্যকর কীর্তি ফাঁস করলেন ব্যারাকপুরের প্রাক্তন সাংসদ অর্জুন সিং।
সূত্রের খবর, নৈহাটির ভোটার তালিকায় একটি নাম ঘিরে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। নৈহাটি বিধানসভার অন্তর্গত এ টি ঘোষ লেনের বাসিন্দা সালেয়া খাতুন। তবে তিনি নৈহাটির বাসিন্দা হলেও জন্মসূত্রে পাকিস্তানের করাচির নাগরিক। তাতে অবশ্য কোনও আপত্তি থাকারও কথা নয়। কিন্তু মূল সমস্যা ভোটার তালিকা নিয়ে। বিজেপি নেতা অর্জুন সিংয়ের অভিযোগ, পাক নাগরিক হয়েও বাংলায় ভোটার সালেয়া। তাঁর কথায়, ‘উনি পাকিস্তানের নাগরিক। করাচি থেকে এখানে এসেছেন। ওঁর মেয়েরও পাকিস্তানের পাসপোর্ট রয়েছে। কিন্তু বাংলায় এসেই তাঁরা হয়ে গিয়েছেন ভারতীয়।’ ইতিমধ্যে নির্বাচন কমিশন ও স্বরাষ্ট্র দফতরের কাছে সালেয়ার পাক নাগরিক হওয়ার নথি মেইল করে পাঠিয়ে দিয়েছেন অর্জুন সিং। তাঁর দাবি, অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে তড়িঘড়ি পুশব্যাক করা উচিত। সাম্প্রতিককালে রাজ্যে ভুয়ো পাসপোর্ট-কাণ্ডে জড়ানো আজাদ মল্লিকের বিরুদ্ধেও উঠেছিল একই অভিযোগ। আজাদ একুশের বিধানসভা নির্বাচন ও গত বছর হওয়া লোকসভা নির্বাচনে ভোট দিয়েছিলেন। কিন্তু বাংলার ভোটার হলেও জন্মসূত্রে ছিলেন পাকিস্তানের নাগরিক। ইডির কাছেই জেরায় সেই কথা স্বীকার করেছিলেন তিনি।
তৃণমূল বিধায়কের বক্তব্য
নৈহাটির ‘ভোটার’ সালেয়ার পাকিস্তান-যোগের কথা অস্বীকার করেননি নৈহাটির তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক সনৎ দে। তিনি বলেন, ‘ভোটার কার্ড দেয় নির্বাচন কমিশন। যা অর্জুন সিংদের আওতায়। ওনারাই দেখুক, কী ব্যাপার। এটা সত্যি কথা যে সালেয়া পাকিস্তানের বাসিন্দা। যার সঙ্গে তার বিয়ে হয়েছে, তিনি কর্মসূত্রে দুবাইয়ে থাকতেন। ২৮ বছর আগে ওঁর সঙ্গে বিয়ে করেই সে এই রাজ্যে আসে। এবার ভোটার কার্ড ভুয়ো নাকি আসল তা ওরাই দেখুক।’ স্ত্রীর পাকিস্তানের নাগরিকত্ব রয়েছে, সেই কথা স্বীকার করেছেন সালেয়ার স্বামী মহম্মদ ইমরানও। তিনি বলেন, ‘১৯৯১ সালে ও করাচি থেকে এখানে এসেছেন। ভোটার তালিকায় নাম উঠেছিল ২০০৮ সালের আগে। সেই থেকেই ভোট দিত।’ বলে রাখা ভালো, সম্প্রতি প্রশাসনের উদ্যোগে বাতিল হয়েছে সালেয়ার পাসপোর্ট। কূটনৈতিক টানাপোড়েনে রিনিউ ভিসা হয়নি। ফলে অবৈধভাবে বাংলায় রয়ে গিয়েছেন তিনি। অবশ্য তাঁর পরিবারের দাবি, প্রশাসন মানবিকতার খাতিরে তাঁকে বৈধ পাসপোর্ট দিক।

এত তাড়াতাড়ি বিশেষ নিবিড় সংশোধন তালিকা ফাইনাল করতে হবে, সেই নিয়ে আগেই সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। স্বাভাবিকভাবেই এসআইআর আবহে এই ঘটনায় অস্বস্তিতে পড়তে হতে পারে বুথ লেভেল অফিসার বা বিএলও-দের। কারা বৈধ, কারা নন, সেই নিয়ে জলঘোলা এত সহজে থামার নয়, এমনটাই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। এর আগে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) মনোজ কুমার আগরওয়াল জানিয়েছিলেন, ‘রাজ্যে এসআইআর হলে কোনও বৈধ ভোটারের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ যাবে না।’