কর্ণাটকের জাতিগত সমীক্ষায় আপত্তি সুধা মূর্তির! কেন?

Spread the love

কর্ণাটকের জাতিগত সমীক্ষায় যোগ দেবেন না রাজ্যসভার সাংসদ তথা শিক্ষাবিদ সুধা মূর্তি। একই সঙ্গে ইনফোসিসের প্রতিষ্ঠাতা নারায়ণ মূর্তি এবং তার পরিবারও এই সমীক্ষায় অংশগ্রহণ করবেন না। মূর্তি দম্পতি জানিয়েছেন, তাঁরা সমাজের পিছিয়ে পড়া অংশের প্রতিনিধি নন, সেই কারণেই জাতিগত সমীক্ষায় যোগ দেবেন না।

গত সেপ্টেম্বর থেকে কর্ণাটকে শুরু হয়েছে সামাজিক ও শিক্ষাগত সমীক্ষা যা ‘জাতিগত সমীক্ষা’ নামে পরিচিত। রাজ্যেজুড়ে এই সমীক্ষা চালাচ্ছে কর্ণাটক স্টেট কমিশন ফর ব্যাকওয়ার্ড ক্লাস। এই আবহে জাতিগত সমীক্ষায় যোগ না দেওয়ার কথা লিখিতভাবে জানিয়েছেন সুধা মূর্তি। তাঁদের মতে, এই সমীক্ষায় তাঁরা যোগ দিলেও সরকারের কোনও কাজে লাগবে না। পাশাপাশি সরকারের হাতে তথ্য না দেওয়ার নেপথ্যে ‘ব্যক্তিগত কারণ’ও রয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন তিনি। অন্যদিকে, মূর্তি পরিবারের রাজ্যের সমীক্ষায় যোগ না দেওয়ায় প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন কর্ণাটকের উপমুখ্যমন্ত্রী ডিকে শিবকুমার। তিনি বলেন, ‘আমরা কাউকে এই সমীক্ষায় যোগ দেওয়ার জন্য জোর করতে পারি না। স্বেচ্ছায় এই সমীক্ষায় যোগ দিতে হবে।’ বলে রাখা ভালো, এই সমীক্ষা শুরু হওয়ার কয়েকদিন পরেই অর্থাৎ ২৫ সেপ্টেম্বর কর্ণাটক হাইকোর্ট নির্দেশ দিয়েছিল যে জাতিগত সমীক্ষায় যোগ দেওয়া একেবারেই ঐচ্ছিক।

আদালতের তরফে প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানিয়ে দিতে যে এই সমীক্ষা নিয়ে একেবারেই ঐচ্ছিক। কেউ যদি না চান তাহলে তিনি তাঁর ব্যক্তিগত তথ্য না জানাতে পারেন। যদিও কর্ণাটক স্টেট কমিশন ফর ব্যাকওয়ার্ড ক্লাসের তরফে জানানো হয়েছিল, কোনও তথ্য প্রকাশ করা হবে না। যাবতীয় তথ্য গোপন রাখা হবে বলেও আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। কর্ণাটক স্টেট কমিশন ফর ব্যাকওয়ার্ড ক্লাসের চেয়ারম্যান মধুসূদন আর নায়েক স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, এই সমীক্ষাটি কেবলমাত্র অভ্যন্তরীণ ক্ষেত্রে ব্যবহারের জন্য এবং এর কোনও আইনি বৈধতা নেই। এটি রাজ্যের নাগরিকদের জাতি সম্পর্কে জানতে সমীক্ষকদের সহায়তা করবে।উল্লেখ্য, গত ২২ সেপ্টেম্বর থেকে কর্ণাটকে জাতিগত সমীক্ষা শুরু হয়েছে। বাসিন্দাদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করছেন সমীক্ষকেরা। ৬০টি প্রশ্ন রয়েছে, সেগুলির উত্তর নেওয়া হচ্ছে।গোটা সমীক্ষা করাতে ৪২০ কোটি টাকা খরচ হচ্ছে। ১৯ অক্টোবরের মধ্যে গোটা প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার কথা। ডিসেম্বরের মধ্যে সরকারের কাছে জমা পড়বে রিপোর্ট।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *