ভারত পাকিস্তান পরিস্থিতি যতবার উত্তপ্ত হয়েছে ততবার মন্তব্য প্রকাশ করতে দেখা গিয়েছিল জাভেদ আখতারকে। কখনও পাকিস্তানি শিল্পীদের নিয়ে কটাক্ষ করেছেন তিনি, কখনও আবার জঙ্গিদের কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছেন। এবার অন্য একটি বিষয় নিয়ে কথা বলতেই কটাক্ষ উড়ে আসে গীতিকারের দিকে। পাল্টা জবাব দিতে ছাড়েন না তিনিও।
সম্প্রতি ভারতের বিদেশ মন্ত্রী এস জয় শংকরের সঙ্গে বৈঠক সারেন তালিবান সরকারের বিদেশ মন্ত্রী আমির খান মুত্তাকি। উত্তরপ্রদেশে সাহারানপুরেও তাঁকে জানানো হয় স্বাগত। গত বৃহস্পতিবার ভারতে আসার পর শুক্রবার দিল্লিতে সাংবাদিক বৈঠক ডেকেছিলেন তিনি।কিন্তু খুব আশ্চর্যজনকভাবে ওই বৈঠকে ছিলেন না কোনও মহিলা সাংবাদিক। কেন মহিলারা সেখানে উপস্থিত ছিলেন না তা নিয়ে শুরু হয় জল্পনা কল্পনা। তালিবান সরকারের মন্ত্রীর আগমনে ক্ষোভে ফেটে পড়েন জাভেদ আখতার। কিন্তু মন্তব্য প্রকাশ করতে গিয়েই কটাক্ষের সম্মুখীন হতে হয় তাঁকে।
যদিও এর আগে বহুবার কটাক্ষের সম্মুখীন হতে হয়েছে গীতিকারকে, তাই তিনি জানেন কীভাবে সবটা সামলাতে হয়। আফগানিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ভারতে আসতেই তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছিলেন, ‘আমার লজ্জায় মাথা হেঁট হয়ে গিয়েছে। বিশ্বের সবথেকে খারাপ সংগঠনের প্রতিনিধিকে যেভাবে অভ্যর্থনা জানানো হচ্ছে, তা দেখে আমার লজ্জা লাগছে।’
কিন্তু এখানেই শেষ নয়। তিনি লেখেন, ‘আমি ভীষণভাবে চেয়েছিলাম অঞ্জনা ওম কাশ্যপ, রুবি বা চিত্রার মত মহিলা সাংবাদিকরা এই বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত তা সম্ভব হল না।’ এরপরই এক নেটিজেন শিল্পীকে কটাক্ষ করে লেখেন, ‘আপনি তো একজন শিল্পী। আপনি নারী সেজে সাংবাদিক বৈঠকে চলে যান না কেন?’

এই কটাক্ষের উত্তরে জাভেদ আখতার লেখেন, ‘সত্যি তোমার জন্য ভীষণ দুঃখ হচ্ছে। প্রকৃতি তোমার সঙ্গে একেবারে সুবিচার করেনি। এত বুদ্ধি কম নিয়ে আছো কি করে? যাই হোক তবু নিজের নাম বলতে পারছ, খাবার খেতে পারছো, জামা কাপড় বদলাতে পারছ, রাস্তা পারছো, এর জন্য ঈশ্বরের কাছে কৃতজ্ঞ হও।’জাভেদ আখতারের এই জবাব মুহুর্তে ভাইরাল হয়ে যায়। অনেকেই বলেন, একেবারে সঠিক জবাব দিয়েছেন। কেউ কেউ আবার বলেন, একেবারে রাজকীয় জবাব। এমন জবাবই আপনার থেকে আশা করা যায়।
উল্লেখ্য, বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর শুক্রবার নতুন দিল্লিতে আফগানিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকির সাথে দেখা করেছেন। ২০২১ সালে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের পর তালিবানরা কাবুলে ক্ষমতা দখলের পর থেকে দুই দেশের মধ্যে এটিই প্রথম উচ্চ পর্যায়ের আলোচনা।
ভারতে তাঁর প্রথম সংবাদ সম্মেলনেও নারী সাংবাদিকদের বাদ দেওয়ার বিষয়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয় এবং দুই দিন পরে ২৪ জনের বেশি নারী সাংবাদিককে নিয়ে একটি নতুন সংবাদ সম্মেলন ডাকা হয়। মুত্তাকি আগের সম্মেলনে নারীদের অনুপস্থিতিকে ‘প্রযুক্তিগত সমস্যা’ বলে অভিহিত করেছিলেন, যদিও এবারে তিনি এই প্রসঙ্গে কিছু বলেননি এখনও।