কাস্পিয়ান সাগরে একটি ইরানি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলায় একজন নাবিক নিহত এবং আরও একজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে তেহরান।ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএর খবরে বলা হয়েছে, শনিবারের (২৫ জুলাই) এ ঘটনাকে ‘শত্রুতাপূর্ণ ও অপরাধমূলক হামলা’ আখ্যা দিয়ে তেহরানে ইউক্রেনের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
মন্ত্রণালয়ের দাবি, ইউক্রেনের নেতৃত্ব এ হামলার বিষয়টি স্বীকার করেছে। তেহরানের অভিযোগ, এটি ইরানের প্রতি কিয়েভের ‘অযৌক্তিক ও বৈরী নীতির’ ধারাবাহিকতা। একই সঙ্গে ইরান তার জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
ইরান বলেছে, এ হামলা জাতিসংঘ সনদের ২(৪) অনুচ্ছেদের লঙ্ঘন এবং এটি রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধকে আরও বিস্তৃত ও উসকে দিতে পারে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রধান কাজা কালাসের সঙ্গে টেলিফোনে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, আরাঘচি এ হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কঠোর প্রতিক্রিয়া দাবি করেছেন। পাশাপাশি এ ঘটনার জন্য দায়ীদের ও তাদের সমর্থকদের জবাবদিহির আওতায় আনার আহ্বান জানান তিনি।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এক্সে (সাবেক টুইটার) এক পোস্টে দাবি করেছেন, কাস্পিয়ান সাগরে দূরপাল্লার হামলায় ইউক্রেন ‘খুব শক্তিশালী ফলাফল’ অর্জন করেছে। তার দাবি, ইরান-সংশ্লিষ্ট সামরিক মালামাল বহনে ব্যবহৃত জাহাজ এবং একটি যুদ্ধজাহাজে আঘাত হানা হয়েছে। তবে তেহরানের উল্লেখ করা বাণিজ্যিক জাহাজটির নাম তিনি উল্লেখ করেননি।

জেলেনস্কি অভিযোগ করেন, রাশিয়া উপসাগরীয় দেশগুলো এবং যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনার স্যাটেলাইট চিত্র ইরানকে সরবরাহ করছে। তার দাবি, ১৯ ও ২০ জুলাই বাহরাইন, জর্ডান ও কুয়েতের বিমানঘাঁটি পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে।
২০২২ সালে ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর ইরান রাশিয়াকে শাহেদ ড্রোন সরবরাহ করে আসছে। ইউক্রেনের দাবি, রাশিয়ার আগ্রাসন শুরুর পর থেকে তারা ৪৪ হাজারের বেশি ইরানি নকশার ড্রোন ভূপাতিত করেছে।