কুয়েত ও বাহরাইনের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল ইরান! কেশম দ্বীপে মার্কিন হামলা

Spread the love

মার্কিন সামরিক বাহিনী মঙ্গলবার (২ জুন) দাবি করেছে, তারা উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরানের একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা ‘সফলভাবে প্রতিহত’ করেছে এবং ‘আত্মরক্ষার অংশ হিসেবে’ ইরানের কেশম দ্বীপে পাল্টা হামলা চালিয়েছে।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) একইসঙ্গে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) সেই দাবি অস্বীকার করেছে, যেখানে বলা হয়েছিল যে তারা বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের সদর দফতর এবং ওই অঞ্চলের একটি বিমানঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে।

 

এক বিবৃতিতে সেন্টকম জানায়, ‘ইরান প্রতিবেশী দেশগুলোর দিকে কয়েকটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছিল, তবে কোনোটিই নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারেনি।’
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘কুয়েতের দিকে নিক্ষেপ করা দুটি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র লক্ষ্যস্থলে পৌঁছানোর আগেই ভেঙে পড়ে বা পথেই বিকল হয়ে যায়। এবং বাহরাইনের দিকে ছোড়া তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র মার্কিন ও বাহরাইনি বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তাৎক্ষণিকভাবে ভূপাতিত করে।’

কুয়েতের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ‘শত্রুপক্ষের’ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা প্রতিহত করছে।
সেন্টকম আরও জানায়, ইরান থেকে উৎক্ষেপণ করা তিনটি আক্রমণাত্মক ড্রোনও ভূপাতিত করা হয়েছে। এসব ড্রোন আন্তর্জাতিক জলসীমায় বৈধভাবে চলাচলরত বেসামরিক জাহাজগুলোর দিকে অগ্রসর হচ্ছিল বলে দাবি করা হয়েছে।
কেশম দ্বীপ কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে অবস্থিত, যা উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল ও গ্যাস পরিবহনের প্রধান সমুদ্রপথ। ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে তেহরান কার্যত এই নৌপথ বন্ধ করে রেখেছে।
সেন্টকম জানায়, তাদের হামলার লক্ষ্য ছিল কেশম দ্বীপে অবস্থিত একটি ‘ইরানি সামরিক গ্রাউন্ড কন্ট্রোল স্টেশন’। এ অভিযানে কোনো মার্কিন সেনা সদস্য আহত হননি বলেও দাবি তাদের।
অন্যদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএ প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি দাবি করে, কেশম দ্বীপে মার্কিন হামলার জবাবে তারা ওই অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোতে আঘাত হেনেছে।
এর জবাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেয়া এক পোস্টে সেন্টকম লিখেছে, ‘মিথ্যা। মার্কিন বাহিনীর বিরুদ্ধে ইরানের সব হামলাই ব্যর্থ হয়েছে।’
গত ৮ এপ্রিল থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে। তবে সংঘাতের স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে পরবর্তী আলোচনা এখন পর্যন্ত কোনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি আনতে পারেনি।
এছাড়া, গেল সোমবার (১ জুন) তেহরান সতর্ক করে বলেছে, লেবাননে ইসরাইলের সম্প্রসারিত সামরিক অভিযান যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতির অবসান ঘটাতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *