জামিন পেলেন চাঞ্চল্যকর মেঘালয় হানিমুন কাণ্ডের মূল অভিযুক্ত সোনম রঘুবংশী। মেঘালয়ে হানিমুনে গিয়ে স্বামী রাজা রঘুবংশীকে খুন করার অভিযোগ উঠেছিল তার বিরুদ্ধে। আগে তিন-তিনবার তাঁর জামিনের আবেদন খারিজ গয়ে গিয়েছিল। শেষ পর্যন্ত মঙ্গলবার তাঁর জামিনের আবেদন মঞ্জুর করল শিলংয়ের একটি আদালত। এরপরেই সারা দেশের মানুষ প্রশ্ন তুলছে, একজন খুনিকে কীসের ভিত্তিতে আদালত জামিন দিল? জানা যাচ্ছে, এই জামিনের নেপথ্যে রয়েছে স্রেফ টাইপিংয়ের ভুল।
হানিমুনে গিয়ে স্বামীকে খুনের ঘটনা সামনে আসতে ২০২৫ সালে শোরগোল পড়ে গিয়েছিল গোটা দেশে। গতবছর মে মাসে স্বামী রাজা রঘুবংশীর সঙ্গে মেঘালয়ের পূর্ব খাসি পাহাড়ে হানিমুনে গিয়েছিলেন সোনম। সোহরা থেকে প্রথমে নিখোঁজ হয়ে যান তাঁরা। পরে খাদের মধ্যে থেকে রাজার দেহ উদ্ধার হয়। উত্তরপ্রদেশ থেকে পরে সোনমকে আটক করা হয়। কিন্তু এনডিটিভি-র প্রতিবেদন অনুসারে,সোনমের গ্রেফতারির যে মেমো জমা দেওয়া হয়েছিল তাতে উল্লিখিত ধারা ছিল ন্যায় সংহিতার ৪০৩(১)। বাস্তবে যার কোনও অস্তিত্বই নেই। ব্রিটিশ আমলের আইপিসি সরিয়ে প্রায় দু’বছর আগে যে নতুন বিএনএস (বিএনএস) চালু হয়েছে, তাতে ৪০৩(১) বলে কোনও ধারাই নেই। খুনের মামলার প্রকৃত ধারাটি হওয়ার কথা ছিল ১০৩(১)। সম্ভবত ১০৩-এর বদলে ভুল করে ৪০৩ লিখে ফেলাই পুলিশের পক্ষে কাল হল।
আদালতের আদেশ অনুসারে, সোনম রঘুবংশীর গ্রেফতার মেমো ,পরিদর্শন মেমো, অধিকার জানানোর মেমো, এবং এমনকী কেস ডায়েরির এন্ট্রিগুলিতেও ‘ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একটি অস্তিত্বহীন ধারা ৪০৩(১)’ উল্লেখ করা হয়েছে। পুলিশ এটিকে একটি ‘করণিক ত্রুটি’ বলে যুক্তি দিলেও, আদালত পর্যবেক্ষণ করে যে অভিযুক্তকে ‘গ্রেফতারের কার্যকর কারণ’ দেখানো হয়নি। বিচারকের পর্যবেক্ষণ, ভুল ধারার উল্লেখ থাকায় অভিযুক্তকে গ্রেফতারের সঠিক আইনি ভিত্তি জানানো হয়নি, যা কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এছাড়া গ্রেফতারের পর সোনমকে যখন প্রথম গাজিপুরে আদালতে তোলা হয়, তখন তাঁকে কোনও আইনজীবীর সাহায্য নিতে দেওয়া হয়েছিল কিনা, তারও কোনও প্রমাণ পুলিশ দিতে পারেনি। ৫০,০০০ টাকার ব্যক্তিগত বন্ডে সোনমকে জামিন দেওয়ার পাশাপাশি আদালত শর্ত দিয়েছে, তিনি পালাবেন না, প্রমাণ নষ্ট ও সাক্ষীদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করবেন না, নির্ধারিত প্রতিটি তারিখে আদালতে উপস্থিত থাকতে হবে, আদালতের অনুমতি ছাড়া এই আদালতের এক্তিয়ারভুক্ত এলাকা ত্যাগ করতে পারবেন না। অর্থাৎ, জামিন পেলেও সোনম পূর্ব খাসি পাহাড় এখনও ছাড়তে পারছেন না।

মেঘালয় হত্যাকাণ্ড
২০২৫ সালের ১১ মে ইন্দোরের বাসিন্দা রাজা রঘুবংশীর সঙ্গে বিয়ে হয় সোনমের। এরপর ২০ মে হানিমুনে তাঁরা মেঘালয়ে যান। সেখানে পৌঁছনোর কয়েকদিন পরেই রাজা নিখোঁজ হন এবং ২ জুন একটি খাদ থেকে তাঁর দেহ উদ্ধার হয়। এরও বেশ কয়েকদিন পর উত্তরপ্রদেশের গাজিপুর থেকে গ্রেফতার করা হয় সোনমকে। মেঘালয় পুলিশ জানিয়েছিল, সোনম আত্মসমর্পণ করেছেন। রাজার খুনে তিনিই মূল অভিযুক্ত। এছাড়া, তাঁর প্রেমিক রাজ এবং কয়েক জন সহযোগীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। প্রেমিক রাজের সঙ্গে যৌথভাবে পরিকল্পনা করে স্বামী রাজাকে খুন করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।