ভোটদানের হারে দেশের সর্বকালীন রেকর্ড গড়ল বাংলা

Spread the love

স্বাধীনতার পর থেকে ভোটের হারে সব রেকর্ড ভেঙে চুরমার বাংলায়। প্রথম দফাতেই জোরালো ইঙ্গিত মিলেছিল। আর দ্বিতীয় তথা শেষ দফা সম্পন্ন হতেই স্পষ্ট হয়ে গেল-দেশের সর্বকালের সর্বোচ্চ ভোটের হারের রেকর্ড গড়ে ফেলেছে পশ্চিমবঙ্গ। দ্বিতীয় দফার নির্বাচনের পর এ রাজ্যে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত ভোট পড়েছে ৯২.৪৭ শতাংশ। যদিও এখনও নির্বাচন কমিশনের তরফে চূড়ান্ত ভোটের হার প্রকাশ করা হয়নি। তবে এ পর্যন্ত যে পরিসংখ্যান এসেছে, তাতে দেশের এর আগের সমস্ত নজির ভেঙে গিয়েছে। প্রথম ও দ্বিতীয় দফা মিলিয়ে বাংলায় মোট ভোটের হার দাঁড়িয়েছে ৯২.৮৫ শতাংশ।

দেশের সর্বকালীন রেকর্ড বাংলায়

গত ২৩ এপ্রিল এবং ২৯ এপ্রিল দু’দফার ভোটেই পশ্চিমবঙ্গে বিপুল ভোট পড়েছে। প্রথম দফায় ১৫২টি আসনে ভোটগ্রহণ হয়েছিল। সেই সময় ভোট পড়েছিল ৯৩.১৯ শতাংশ। সে দিনই দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার জানিয়ে দিয়েছিলেন, স্বাধীনতার পর থেকে পশ্চিমবঙ্গে এত ভোট কখনও পড়েনি। দ্বিতীয় দফাতেও ভোটের হারে নজির তৈরি হল। এর আগে দেশের সর্বকালের সর্বোচ্চ ভোটদানের রেকর্ড ছিল ত্রিপুরার দখলে। সেখানে ২০১৩ সালে‌ ৯১.৮২ শতাংশ ভোট পড়েছিল, যা এত দিন পর্যন্ত দেশে বিধানসভা নির্বাচনের নিরিখে সর্বোচ্চ ছিল। ১৩ বছর ধরে ওই নজির অক্ষত ছিল। কিন্তু ২০২৬-এর পশ্চিমবঙ্গের ভোট সেই রেকর্ড ভেঙে দিল। উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলিতে বরাবরই ভোট বেশি পড়ে। কমিশনের পরিসংখ্যান ঘেঁটে দেখা যাচ্ছে, ১৯৯৩ সালে নাগাল্যান্ডে ৯১.৫৩ শতাংশ, ১৯৯৫ সালে মণিপুরে ৯১.৪১ শতাংশ, ২০০৮ সালে মেঘালয়ে ৮৮.৯৯ শতাংশ, ২০২৪ সালে অরুণাচল প্রদেশে ৮২.২৯ শতাংশ, ১৯৯৯ সালে সিকিমে ৮১.৮৩ শতাংশ, মিজোরামে ১৯৮৯ সালে ৮১.৩০ শতাংশ সর্বোচ্চ ভোট পড়েছিল। এসআইআর-এর পর ২০২৬ সালে অসমেও ভোটের হারে নজির তৈরি হয়েছে। সেখানে ভোট পড়েছে ৮৫.৩৮ শতাংশ, এখনও পর্যন্ত ওই রাজ্যের নিরিখে সর্বোচ্চ।

উত্তর ভারতের রাজ্যগুলিতে ভোটের হার

ভোটের হার তুলনামূলক কম উত্তর ভারতের রাজ্যগুলিতে। এখনও পর্যন্ত উত্তরপ্রদেশে ৬১.০৪ শতাংশের (২০১৭ সাল) বেশি ভোট পড়েনি বিধানসভায়, যা দেশের মধ্যে সর্বনিম্ন। এছাড়া, দিল্লিতে ১৯৭২ সালে ৬৮.৮৬ শতাংশ, উত্তরাখণ্ডে ২০১২ সালে ৬৬.১৭ শতাংশ, হিমাচল প্রদেশে ২০০৩ সালে ৭৪.৫১ শতাংশ, বিহারে ২০২৫ সালে ৬৬.৯৮ শতাংশ, ঝাড়খণ্ডে ২০২৪ সালে ৬৭.৬২ শতাংশ, ওড়িশায় ২০২৪ সালে ৭৪.৩৫ শতাংশ, ছত্তিশগড়ে ২০১৩ সালে ৭৭.১২ শতাংশ, মধ্যপ্রদেশে ২০২৩ সালে ৭৭.১ শতাংশ, পাঞ্জাবে ২০১২ সালে ৭৮.২ শতাংশ, হরিয়ানায় ২০১৪ সালে ৭৬.১৩ শতাংশ সর্বোচ্চ ভোট পড়েছিল। পশ্চিম ভারতের রাজ্যগুলির ক্ষেত্রে রাজস্থানে ২০১৩ সালে ৭৫.০৪ শতাংশ, গুজরাটে ২০১২ সালে ৭১.৩০ শতাংশ, মহারাষ্ট্রে ১৯৯৫ সালে ৭১.৬৯ শতাংশ, গোয়ায় ২০১২ সালে ৮১.৭৩ শতাংশ সর্বোচ্চ ভোট পড়েছে। দক্ষিণ ভারতের পরিসংখ্যান বলছে, ১৯৬০ সালে কেরলে ৮৫.৭২ শতাংশ, অন্ধ্রপ্রদেশে ২০২৪ সালে ৮০.৫৬ শতাংশ, তেলাঙ্গানায় ২০১৮ সালে ৭৩.৩৭ শতাংশ, কর্ণাটকে ২০২৩ সালে ৭৩.১৩ শতাংশ, পুদুচেরীতে ২০২৬ সালে ৮৯.৮৩ শতাংশ (এসআইআর-এর পর) সর্বোচ্চ ভোট পড়েছে। তামিলনাড়ুতে এবার এসআইআর-এর পর ৮৫.১ শতাংশ ভোট পড়েছে। জম্মু ও কাশ্মীরে ভোটদানের হার বরাবর কম। তবে ১৯৮৭ সালে সেখানে ৭৪.৮৮ শতাংশ ভোট পড়েছিল, এখনও পর্যন্ত যা সর্বোচ্চ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *