Abhishek Banerjee Update: কোভিড-১৯ মহামারির সময় ডায়মন্ড হারবার লোকসভা এলাকায় করোনা পরীক্ষা এবং স্বাস্থ্য পরিষেবাকে কেন্দ্র করে দুর্নীতি ও প্রতারণার অভিযোগ তুলে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করলেন বিজেপি নেতা অভিজিৎ দাস (ববি)। সোমবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিষ্ণুপুর থানায় এই অভিযোগ দায়ের করা হয়। একইসঙ্গে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এবং এফআইআর দায়েরেরও আবেদন জানিয়েছেন তিনি।
অভিযোগপত্রে দাবি করা হয়েছে, কোভিড অতিমারির সময় ডায়মন্ড হারবার লোকসভার সাতটি বিধানসভা এলাকায় পরিচালিত ‘কোভিড মেগা টেস্ট ড্রাইভ’ এবং ‘ডক্টরস অন হুইলস’ কর্মসূচির নামে একাধিক অনিয়ম হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত স্বাস্থ্যকর্মীদের পরিবর্তে আশাকর্মীদের দিয়ে করোনা পরীক্ষা করানো হয়েছিল, যা ভারতীয় চিকিৎসা গবেষণা পরিষদ (ICMR)-এর নির্দেশিকার পরিপন্থী।
বিজেপি নেতা অভিজিৎ দাসের দাবি, ২০২২ সালের ১২ জানুয়ারি একদিনে ৫৩ হাজার করোনা পরীক্ষা করার যে তথ্য প্রকাশ করা হয়েছিল, তা বাস্তবসম্মত নয় এবং ভুয়ো তথ্যের উপর ভিত্তি করে জনসমক্ষে তুলে ধরা হয়েছিল। তাঁর অভিযোগ, বিপুল সংখ্যক পরীক্ষার দাবি করে প্রকৃত সংক্রমণের তথ্য গোপন করা হয় এবং ইচ্ছাকৃতভাবে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা কমিয়ে দেখানো হয়েছিল।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, বহু ক্ষেত্রে করোনা পজিটিভ রোগীদের রিপোর্টে নেগেটিভ ফলাফল দেওয়া হয়েছিল। এর ফলে আক্রান্ত ব্যক্তিরা যথাসময়ে চিকিৎসা পাননি এবং তাঁদের জীবন ঝুঁকির মুখে পড়ে। এই ধরনের ভুল বা বিভ্রান্তিকর রিপোর্টের কারণে জনস্বাস্থ্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও দাবি অভিযোগকারীর।
শুধু তাই নয়, ‘ডক্টরস অন হুইলস’ প্রকল্পে ব্যবহৃত বিপুল পরিমাণ করোনা পরীক্ষার কিট কোথা থেকে এল, তার জন্য অর্থ বরাদ্দ কে করেছিল এবং সরকারি অনুমোদন কীভাবে মিলেছিল— সেই প্রশ্নও তুলেছেন অভিজিৎ দাস। তাঁর বক্তব্য, একজন সাংসদের উদ্যোগে এত বড় আকারে করোনা পরীক্ষা পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় কিট ও অর্থের উৎস খতিয়ে দেখা জরুরি।

এই অভিযোগে শুধু অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নন, তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগী সুমিত রায়, তৎকালীন জেলা শাসক, ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলার পুলিশ সুপার, বিভিন্ন মহকুমা ও ব্লকের প্রশাসনিক আধিকারিক, স্বাস্থ্য দফতরের কর্তাব্যক্তি এবং কয়েকজন জনপ্রতিনিধি-সহ মোট ২৫ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে।
বিজেপি নেতার দাবি, এই অভিযোগের ভিত্তিতে অবিলম্বে এফআইআর দায়ের করে বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন করা উচিত। তাঁর কথায়, কোভিড পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে সরকারি অর্থের অপচয় এবং মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলার অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর। তাই নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য সামনে আনা প্রয়োজন।