গাজামুখী ত্রাণবাহী নৌবহর ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’ ব্যাপক ইসরাইলি বাধার মুখে পড়েছে। পরিবেশকর্মী গ্রেটা থুনবার্গসহ বহরের কয়েকটি জাহাজের যাত্রীকে আটক করেছে নেতানিয়াহু বাহিনী।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, আটকদের ইসরাইলের একটি বন্দরে নেয়া হয়েছে।
গাজার ফিলিস্তিনিদের জন্য ত্রাণ সহায়তা নিয়ে রওনা দেয়া নৌবহর বুধবার (০১ অক্টেবার) স্থানীয় সময় রাতে ইসরাইলি বাধার মুখে পড়ে। বহরের কয়েকটি জাহাজ থামিয়ে তাতে উঠে পরে নৌ-সেনারা। বন্ধ করে দেয়া হয় নৌযান থেকে চলা সরাসরি সম্প্রচার।
পরে নৌযানে থাকা মানবাধিকার কর্মীদের আটক করে সেখানেই প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। আটকদের মধ্যে আছেন সুইডিশ পরিবেশকর্মী গ্রেটা থুনবার্গও। সামাজিক মাধ্যমে দেয়া এক পোস্টে ইসরাইলি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, আটকদের ইসরাইলের একটি নৌ বন্দরে নেয়া হচ্ছে।
এদিকে, ফ্লোটিলা নৌবহরকে বাধা দেয়া ও বেশ কয়েকজনকে আটকের ঘটনায় বিশ্বজুড়ে নিন্দার ঝড় উঠেছে। তুরস্ক এ ঘটনাকে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। আর ব্রিটিশ লেবার পার্টির সাবেক নেতা জেরেমি করবিন এটিকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেছেন।

এছাড়া নৌবহরে বাধা দেয়া ও কয়েকজনকে আটক করার ঘটনাকে অপহরণ আখ্যা দিয়েছে ফ্রিডম ফ্লোটিলা কর্তৃপক্ষ।
এর আগে গাজামুখী নৌযানে ইসরাইলি হস্তক্ষেপের কথা ফেসবুক লাইভে জানান ঐতিহাসিক মিশনটিতে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে অংশ নেয়া আলোকচিত্রী, শিল্পী ও সমাজকর্মী শহিদুল আলম।
গাজামুখী ত্রাণ বহর আটকে দেয়ায় ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছে ইতালিতে। বুধবার রোমের সড়কে নেমে বিক্ষোভ করেন ফিলিস্তিনপন্থিরা। দেশটির সবচেয়ে বড় শ্রমিক ইউনিয়ন শুক্রবার ধর্মঘট ডেকেছে। এছাড়া বিক্ষোভ হয়েছে জার্মানি, তুরস্ক, গ্রিসসহ কয়েকটি দেশে।
‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’ নামে এ অভিযানে অংশ নেয় ৪০টিরও বেশি বেসামরিক নৌযান, যাতে প্রায় ৫০০ যাত্রী আছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন বিভিন্ন দেশের আইনপ্রণেতা ও মানবাধিকার কর্মী।