একের পর এক বিস্ফোরণ, হামলা। বেড়েই চলেছে হতাহতের সংখ্যা। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের বর্তমান চিত্রটা ঠিক এমনই। এই আবহে গাড়ি বিস্ফোরণে নিহত রাশিয়ার এক উচ্চ পদস্থ সামরিক অফিসার। রাশিয়ার তদন্ত কমিটি জানিয়েছে, রাজধানী মস্কোয় রুশ সেনাবাহিনীর ওই জেনারেলের গাড়ির নিচে আচমকাই বিস্ফোরণ হয়। যার জেরে মৃত্যু হয় তাঁর। এমন বিস্ফোরণের ঘটনায় কী ইউক্রেনের হাত রয়েছে? প্রশ্ন উঠছে। ইতিমধ্যেই রুশ গোয়েন্দারা পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত শুরু করেছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘটনাটি রাশিয়ার রাজধানীর দক্ষিণাঞ্চলে ঘটে। সোমবার সকালে গাড়ির নিচে রাখা একটি বিস্ফোরক ডিভাইস বিস্ফোরণে লেফটেন্যান্ট জেনারেল ফানিল সারভারভের মৃত্যু হয়। ৫৬ বছর বয়সি সারভারভ সশস্ত্র বাহিনীর অপারেশনাল প্রশিক্ষণ বিভাগের প্রধান ছিলেন। ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বিস্ফোরণের পরপরই নিরাপত্তা বাহিনী পুরো এলাকা ঘিরে ফেলেছে। তদন্তকারীরা ধ্বংসাবশেষ সংগ্রহ করেছেন। লেফটেন্যান্ট জেনারেলের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুর তদন্তে নেমেছে রাশিয়ার তদন্ত কমিটি। সারভারভের গাড়ির নিচে কোনও বিস্ফোরক ডিভাইস লাগানো ছিল। তার থেকেই বিস্ফোরণ। ঘটনার কারণ ও এর সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
তদন্তকারী কমিটির মুখপাত্র স্বেতলানা পেট্রেনকো জানিয়েছেন, কী ভাবে বিস্ফোরণ হল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে সব দিক খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। এই বিস্ফোরণের নেপথ্যে ইউক্রেনের গোয়েন্দা সংস্থাগুলি রয়েছে কিনা, খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে সারভারভকে হত্যার পেছনে ইউক্রেনকে সন্দেহ করা হলেও কিয়েভ এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য করেনি। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে হামলা চালায় রাশিয়া। সে সময় থেকে এখন পর্যন্ত রাজধানী মস্কোতে অনেক সামরিক কর্মকর্তাই হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছেন। এর আগে গত এপ্রিলে গাড়িবোমা হামলায় নিহত হন জেনারেল ইয়ারোস্লাভ মোসকালিক। সেই খুনের ঘটনায় এক সন্দেহভাজনকে গ্রেফতারও করা হয়েছিল। তবে ফানিলের মৃত্যুর নেপথ্যে কারা রয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। এছাড়া গত বছরের ডিসেম্বরে স্কুটারে লুকিয়ে রাখা একটি ডিভাইসে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে জেনারেল ইগোর কিরিলোভ নিহত হন। পরবর্তীতে ইউক্রেনের একটি সূত্র বিবিসিকে জানায়, কিরিলোভ ইউক্রেনের সিকিউরিটি সার্ভিসের হাতে নিহত হয়েছেন। তবে এই ঘটনার দায় স্বীকার বা প্রত্যাখ্যান কোনও কিছুই করেনি ইউক্রেন।
