রুপোলি পর্দার চেনা চাকচিক্য, লাইমলাইট আর গ্ল্যামার দুনিয়ার হাতছানি— এক লহমায় এই সব কিছু থেকে নিজেকে অনেকটাই দূরে সরিয়ে নিয়েছেন বলিউড অভিনেত্রী অনুষ্কা শর্মা। আরসিবির ট্রফি জয়ের পর স্বামী বিরাট কোহলির সাথে বৃন্দাবনে প্রেমানন্দ মহারাজের আশ্রমে ওঁর ছুটে যাওয়া কিন্তু কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়, বরং ওঁর জীবনযাত্রার এক বড়সড় পরিবর্তনেরই প্রতিফলন। অভিনয় জগতের চেনা জাঁকজমক ভুলে অনুষ্কা এখন মজেছেন এক্কেবারে শান্ত, আধ্যাত্মিক এবং ধর্মেকর্মের এক নিভৃত জীবনে।
রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু (RCB) আইপিএল-এর (IPL) মঞ্চে টানা দ্বিতীয়বারের মতো চ্যাম্পিয়न्स ট্রফি ঘরে তুলেছে। আর আরসিবির এই ব্যাক-টু-ব্যাক মেগা জয়ের সেলিব্রেশন মাঠ ছাড়িয়ে এবার পৌঁছাল বৃন্দাবনের পুণ্যভূমিতে! ট্রফি জয়ের পর মাঠের মধ্যে বিরাটের উদ্দাম নাচ আর অনুষ্কার সাথে মিষ্টি মুহূর্তের ছবি নেটপাড়ায় ভাইরাল হতেই, এই তারকা দম্পতি মেতে উঠলেন ভক্তি আর আধ্যাত্মিকতায়।
বৃন্দাবনের আশ্রমে দুই ঘণ্টা! আধ্যাত্মিকতায় ডুব দিলেন ‘বীরূষ্কা’
আইপিএল-এর ট্রফি হাতে পাওয়ার পর সোমবার রাতেই অনুষ্কাকে সাথে নিয়ে বৃন্দাবনের বিখ্যাত রাধা কেলি কুঞ্জ আশ্রমে পৌঁছে যান বিরাট কোহলি। সেখানে পরম পূজনীয় সন্ত প্রেমানন্দ মহারাজের দর্শন করেন এবং তাঁর পা ছুঁয়ে আশীর্বাদ নেন এই যুগল। গত কয়েক বছর ধরেই বিরাট ও অনুষ্কা নিয়মিত প্রেমানন্দ মহারাজের দরবারে যাতায়াত করছেন এবং ওঁর সৎসঙ্গের সাক্ষী থেকেছেন।
আশ্রম সূত্রের খবর, কড়া নিরাপত্তার মধ্যে সেখানে পৌঁছে প্রায় দুই ঘণ্টা সময় কাটান তাঁরা। মহারাজকে প্রণাম করার এবং ওঁর কথা শোনার একটি মিষ্টি ভিডিও ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড়ের গতিতে ভাইরাল হয়েছে। মাঠের সেই চেনা আগ্রাসী কোহলিকে এভাবে হাত জোড় করে শান্ত মনে বসে থাকতে দেখে অবাক সকলেই।
আরসিবির এই ঐতিহাসিক জয়ের পর সোমবার বিকেলে নিজের ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডেলে একটি অতি মিষ্টি ছবি শেয়ার করেন খোদ অনুষ্কা শর্মা। ছবিতে দেখা যাচ্ছে, বিরাটের হাতের আইপিএল ট্রফিটি ধরে হাসিমুখে স্বামীর কপালে ভালোবাসার চুমু এঁকে দিচ্ছেন অভিনেত্রী, আর বিরাটের চোখে-মুখে তখন জয়ের চওড়া হাসি। অনুষ্কা ক্যাপশনে কোনো দীর্ঘ লেখা লেখেননি, স্রেফ একটি ভিকট্রি সাইন, হার্ট এবং হাত জোড় করার ইমোজি পোস্ট করেছেন।

প্রসঙ্গত, দুই সন্তান ভামিকা এবং অকায়-কে নিয়ে বর্তমানে বেশিরভাগ সময়টাই লন্ডনে কাটান এই তারকা জুটি। তবে বিদেশের মাটিতে থাকলেও, দেশের টান আর ঈশ্বরের প্রতি ভক্তি যে তাঁরা বিন্দুমাত্র ভুলে যাননি।