চাকরির টোপে বাংলাদেশে পাচার! দীর্ঘ দুর্ভোগের পর বাড়ি ফিরলেন কলকাতার মধুমিতা

Spread the love

Kolkata Woman Trafficked to Bangladesh: সংসারে অভাবের জেরে কাজের সন্ধানে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন কলকাতার এক বধূ। কিন্তু কাজের বদলে তাঁর কপালে জোটে দুর্ভোগ। পাচার হয়ে যান তিনি। গত ১ জুলাই বাড়ি থেকে বেরনোর পর আচমকাই নিখোঁজ হয়ে যান উত্তর কলকাতার শ্যামপুকুরের বাসিন্দা মধুমিতা মিস্ত্রি মণ্ডল। ১৭ দিন পর বাংলাদেশ থেকে বাড়িতে ফোন করে নিজের অবস্থার কথা জানান তিনি। অবশেষে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে বুধবার দেশে ফিরলেন মধুমিতা।

কাজের প্রস্তাব এসেছিল সোশ্যাল মিডিয়ায়

মধুমিতা আদতে উত্তর ২৪ পরগনার সন্দেশখালির বাসিন্দা। কয়েক বছর আগে তাঁর বিয়ে হয়। পরে পারিবারিক অশান্তির কারণে তিনি ভাই দীপঙ্কর মিস্ত্রির কাছে চলে আসেন। মধুমিতা এবং তাঁর সন্তানকে নিয়ে পরিবারের সদস্যসংখ্যা বাড়ায় আর্থিক চাপও বেড়ে যায়।

পরিবারে দীপঙ্করই একমাত্র রোজগেরে। এই পরিস্থিতিতে সংসারে কিছুটা সাহায্য করতে কাজের সন্ধান শুরু করেন মধুমিতা। সেই সময় সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে এক ব্যক্তির সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ হয়। তামিলনাড়ুর একটি ওয়ার্কশপে মোটা বেতনের কাজের প্রস্তাব দেওয়া হয় তাঁকে। ভালো বেতনের কাজের আশায় সেই প্রস্তাবে রাজি হয়ে যান মধুমিতা। গত ১ জুলাই গালিফ স্ট্রিটের বাড়ি থেকে কাজের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়েন তিনি। কিন্তু তারপরই তাঁর সঙ্গে পরিবারের যোগাযোগ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়।

বন্ধ মোবাইল, বাড়তে থাকে উদ্বেগ

বাড়ি থেকে বেরনোর পর মধুমিতার মোবাইল ফোনও বন্ধ হয়ে যায়। বার বার চেষ্টা করেও তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেননি পরিবারের সদস্যরা। যত দিন যায়, উদ্বেগ তত বাড়তে থাকে। পরিবারের লোকজন আশঙ্কা করতে শুরু করেন, তাঁর সঙ্গে কোনও বিপদ ঘটেছে কি না। শেষ পর্যন্ত নিখোঁজের ১৭ দিন পর আচমকাই ভাই দীপঙ্করের কাছে ফোন করেন মধুমিতা। ফোনে তিনি জানান, তামিলনাড়ুতে কাজ দেওয়ার কথা বলে তাঁকে আসলে বাংলাদেশে পাচার করে দেওয়া হয়েছে। কোনও রকমে সেই জায়গা থেকে বেরিয়ে তিনি গোপালগঞ্জের একটি হাসপাতালে আশ্রয় নিয়েছেন।

পুলিশের কাছে অভিযোগ পরিবারের

বোনের ফোন পাওয়ার পর আর দেরি করেননি দীপঙ্কর। তিনি শ্যামপুকুর থানায় গিয়ে নিখোঁজের বিষয়টি জানিয়ে ডায়েরি করেন। একই সঙ্গে গোটা বিষয়টি জানানো হয় রাজ্য পুলিশের ডিজি, সিআইডির অতিরিক্ত ডিজি, মানব পাচার দমন শাখা এবং কলকাতা পুলিশের কমিশনারকে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কাছেও অভিযোগ জমা পড়ে। মধুমিতাকে কী ভাবে বাংলাদেশে নিয়ে যাওয়া হল এবং এর পিছনে কারা রয়েছে, তা নিয়ে তদন্তের দাবি ওঠে। পরিবারের অভিযোগ, কাজ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়েই মধুমিতাকে ফাঁদে ফেলে পাচার করা হয়েছিল।

হাসপাতালে আশ্রয়, তারপর দেশে ফেরার প্রক্রিয়া

বাংলাদেশে পৌঁছে মধুমিতা কোনও রকমে সেখান থেকে বেরিয়ে গোপালগঞ্জের একটি হাসপাতালে আশ্রয় নেন বলে পরিবারকে জানান। তাঁর ফোন পাওয়ার পর তাঁকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য প্রশাসনিক এবং কূটনৈতিক স্তরে প্রক্রিয়া শুরু হয়। শেষ পর্যন্ত সেই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। বুধবার ঘোজাডাঙা আউটপোস্ট দিয়ে বাংলাদেশ থেকে ভারতে ফেরানো হয় মধুমিতাকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *