Chidambaram on BRICS। ‘ব্রিকস থেকে ভারতের লাভ কোথায়?’

Spread the love

Chidambaram on BRICS: দিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলন শুরুর আগে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে চর্চা। প্রবীণ কংগ্রেস নেতা পি চিদম্বরম প্রশ্ন তুলেছেন, গত কয়েকটি ব্রিকস সম্মেলন থেকে ভারত বাস্তবে কী লাভ পেয়েছে। তাঁর দাবি, গত দুই-তিনটি বৈঠক থেকে ভারতের কোনও উল্লেখযোগ্য বা স্পষ্ট সুবিধা তাঁর চোখে পড়েনি। আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে ব্রিকস সম্মেলন। ভারত এ বার এই গোষ্ঠীর সভাপতিত্ব করছে। সম্মেলনের আগে চিদম্বরমের মন্তব্য তাই রাজনৈতিক ভাবে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

‘ব্রিকস থেকে কী লাভ হচ্ছে?’

সংবাদ সংস্থা এএনআই-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে চিদম্বরম বলেন, ভারত একসঙ্গে একাধিক আন্তর্জাতিক গোষ্ঠীর সদস্য। ব্রিকসের পাশাপাশি ভারত জি২০, কোয়াড এবং সাংহাই সহযোগিতা সংস্থারও সদস্য। কিন্তু এতগুলি মঞ্চে থাকার পর ভারত বাস্তবে কী পাচ্ছে, সেই প্রশ্নই তুলেছেন তিনি।

তাঁর বক্তব্য, আগের কয়েকটি ব্রিকস সম্মেলন থেকে তিনি তেমন কোনও বাস্তব ফলাফল দেখেননি। এর আগে অবশ্য ব্রিকসের কিছু সম্মেলন থেকে ভারতের জন্য স্পষ্ট সুবিধা তৈরি হয়েছিল বলেও মন্তব্য করেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী। চিদম্বরমের বক্তব্য মূলত আন্তর্জাতিক মঞ্চে অংশগ্রহণের পাশাপাশি তার বাস্তব ফলাফল কতটা হচ্ছে, সেই প্রশ্নকে সামনে এনেছে।

কংগ্রেসকে পাল্টা আক্রমণ বিজেপির

কংগ্রেস নেতার এই মন্তব্যের পর তাঁকে আক্রমণ করেছে বিজেপি। বিজেপির প্রবীণ নেতা নলিন কোহলি প্রশ্ন তুলেছেন, আন্তর্জাতিক কূটনীতিকে কংগ্রেস কী ভাবে দেখে। তাঁর প্রশ্ন, কূটনীতির সাফল্য কি শুধু ‘কী পেলাম’ বা ‘কী দিলাম’-এর হিসাব দিয়ে বিচার করা যায়? তাঁর অভিযোগ, কংগ্রেস আন্তর্জাতিক সম্পর্ককে শুধু লাভ-ক্ষতির দৃষ্টিতে দেখছে।

নলিন কোহলি আরও অভিযোগ করেন, কংগ্রেস বড় একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনকে রাজনৈতিক বিতর্কের বিষয় বানাতে চাইছে। আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের ভূমিকা এবং বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষার গুরুত্ব বোঝার ক্ষেত্রেও কংগ্রেসের অবস্থান নিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন।

দিল্লিতে ব্রিকসের বড় আয়োজন

আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লির ভারত মণ্ডপমে বসছে ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন। ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ব্রিকসের সভাপতিত্ব ভারতের হাতে এসেছে। এ বারের মূল ভাবনা—‘সহনশীলতা, উদ্ভাবন, সহযোগিতা এবং স্থায়িত্বের জন্য নির্মাণ’।

ভারতের সভাপতিত্বে এ বছর ইতিমধ্যে একাধিক বৈঠক এবং উচ্চপর্যায়ের আলোচনা হয়েছে। বাণিজ্য, প্রযুক্তি, শক্তি, স্বাস্থ্য, কৃষি, জলবায়ু এবং পরিবহণের মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতার বিষয় সামনে এসেছে। অর্থাৎ শুধু রাজনৈতিক আলোচনায় সীমাবদ্ধ না থেকে বাস্তব ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর উপরও জোর দেওয়া হচ্ছে।

কারা আসছেন সম্মেলনে?

ব্রিকস এখন আগের তুলনায় অনেক বড় গোষ্ঠী। বর্তমানে এর সদস্য দেশ ১১টি। এর মধ্যে রয়েছে ভারত, চিন, রাশিয়া, ব্রাজিল, দক্ষিণ আফ্রিকা, ইরান, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরশাহী, মিশর, ইথিওপিয়া এবং ইন্দোনেশিয়া।

চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা এবং ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রবোও সুবিয়ান্তো-সহ একাধিক রাষ্ট্রনেতার উপস্থিতির সম্ভাবনা রয়েছে। বিস্তৃত এই সদস্যপদ ব্রিকসকে অর্থনীতি, জ্বালানি, বাণিজ্য এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চে পরিণত করেছে।

ভারতের সামনে কী সুযোগ?

চিদম্বরমের প্রশ্নের মধ্যেই এবার ব্রিকসের আসল সাফল্য মাপার প্রশ্নটিও সামনে এসেছে। ভারতের শিল্পমহল চাইছে, রাজনৈতিক আলোচনার পাশাপাশি বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় বাস্তব সুবিধা তৈরি হোক। রপ্তানি সংস্থাগুলিও ব্রিকসকে আরও বেশি বাজার, বিনিয়োগ ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতার সুযোগে পরিণত করার পক্ষে সওয়াল করেছে। একই সঙ্গে ব্রিকসের ভিতরে চিন, রাশিয়া, ইরান-সহ বিভিন্ন দেশের আলাদা আলাদা রাজনৈতিক অবস্থান রয়েছে। ফলে ঐক্যমত্য তৈরি করাও ভারতের জন্য বড় পরীক্ষা।

সম্মেলনের আগেই রাজনৈতিক লড়াই

দিল্লির ব্রিকস সম্মেলন আন্তর্জাতিক স্তরে ভারতের কূটনৈতিক গুরুত্ব বাড়ানোর বড় সুযোগ। কিন্তু সম্মেলন শুরুর আগেই চিদম্বরমের মন্তব্য এবং বিজেপির পাল্টা আক্রমণে দেশীয় রাজনীতিতেও এই বৈঠক নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়ে গেল। এখন নজর থাকবে, ১২-১৩ সেপ্টেম্বরের সম্মেলন শেষে ভারত সত্যিই এমন কোনও সিদ্ধান্ত বা উদ্যোগ সামনে আনতে পারে কি না, যা শুধু কূটনৈতিক সাফল্য নয়, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি এবং জাতীয় স্বার্থের ক্ষেত্রেও স্পষ্ট ফল এনে দেয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *