চীনে বিয়ের মঞ্চে কুস্তি লড়লেন বর-কনে! হারলে আজীবন করতে হবে ঘরের কাজ

Spread the love

গাড়িতে আগুনের পর ভয়াবহ বিস্ফোরণ, দিগ্বিদিক দৌড়ে পালালো জনতা বর হে ইনশেং হলেন গুইঝৌ প্রদেশের জুনয়ি শহরের একজন পেশাদার কুস্তিগীর। মে মাসের শুরুর দিকে স্থানীয় একটি হোটেলে স্ত্রীর সাথে মিলে ব্যতিক্রমী উদযাপনের আয়োজন করেন তিনি।


ঐতিহ্যবাহী বিয়ের মঞ্চের পরিবর্তে এই দম্পতি সেখানে একটি কুস্তির রিং তৈরি করেন। পেছনে একটি বিশাল স্ক্রিনে নাটকীয় ভঙ্গিতে ‌‘‘বর বনাম কনে’’ (Groom vs Bride) সংবলিত একটি পোস্টার দেখানো হয়।


নবদম্পতি এরপর তাদের নিজ নিজ দল নিয়ে তিন ম্যাচের একটি প্রতিযোগিতা শুরু করেন। নিয়মটাও ছিল মজার- পরাজিত পক্ষকে আজীবন ঘরের যাবতীয় কাজকর্মের দায়িত্ব নিতে হবে।

অনুষ্ঠানের ভিডিওগুলোতে দেখা যায়, প্রথমে কুস্তিগীররা রিংয়ে প্রবেশ করেন এবং বডি স্ল্যাম, টেকডাউন থেকে শুরু করে ক্লোজ-রেঞ্জ গ্র্যাপলিংয়ের (কাছাকাছি থেকে কুস্তি) মতো একের পর এক তাক লাগানো ও জোরালো কৌশল দেখান।


আমন্ত্রিত অতিথিরা গভীর মনোযোগ দিয়ে তা উপভোগ করছিলেন। এমনকি কিছু শিশুকে হাতে খাবারের বাটি নিয়েও ঠাই দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। তারা খেলায় এতটাই মশগুল ছিল যে, খাওয়ার কথাই ভুলে গিয়েছিল!


অনুষ্ঠান যখন চূড়ান্ত মুহূর্তে পৌঁছায়, তখন বর ও কনে নিজেরাই রিংয়ে নামেন। উপস্থিত দর্শকদের মুহুর্মুহু করতালির মধ্যে, হে-এর স্ত্রী দ্রুত ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে তুলে নেন। তিনি অত্যন্ত চতুরতার সাথে বরের আক্রমণগুলো এড়িয়ে যান এবং একটি নিখুঁত ‘শোল্ডার থ্রো’ (কাঁধের ওপর দিয়ে আছাড় দেওয়া)-এর মাধ্যমে বরকে মাটিতে ফেলে দেন।এরপর রেফারি কনেকে বিজয়ী ঘোষণা করেন। জানান, তিনি ‌‘‘আজীবন ঘরের কাজকর্ম করা থেকে অব্যাহতি পেলেন।’’


আসলে পুরো বিষয়টি আগে থেকেই পরিকল্পিত এবং রিহার্সাল করা ছিল। তবুও এই জমকালো প্রদর্শনী অতিথিদের পুরোটা সময় মন্ত্রমুগ্ধ করে রেখেছিল।


বর স্থানীয় সংবাদমাধ্যম শাওশিয়াং মর্নিং পোস্ট-কে জানান, পারফর্মারদের সবাই পেশাদার কুস্তিগীর ছিলেন এবং পুরো শো জুড়ে নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছিল।


হে বলেন, ‘‘অবশ্যই শেষ পর্যন্ত আমাকেই হারতে হতো। আমি তো আর তাকে দিয়ে ঘরের কাজ করাতে পারি না।’’


তিনি জানান, বিয়ের পরিকল্পনার সময় যখন তিনি দেখলেন যে খরচ বাজেটের বাইরে চলে যাচ্ছে, তখনই তার মাথায় এই বুদ্ধিটি আসে। গায়ক বা নৃত্যশিল্পী ভাড়া করার চেয়ে, তিনি নিজেই একটি কুস্তি ম্যাচের আয়োজন করার সিদ্ধান্ত নেন।


তার স্ত্রী এই পরিকল্পনায় পূর্ণ সমর্থন জানান। আর দুজনের বাবা-মা ‘বিষয়টি বুঝতে না পারলেও, তাদের সিদ্ধান্তকে সম্মান জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *