রাজ্যে ই-রিক্সা ও টোটোর বাধ্যতামূলক রেজিস্ট্রেশন নিয়ে রাজনৈতিক মহলে চড়ল পারদ। রাজ্য সরকারের জারি করা নির্দেশিকা অনুযায়ী, ৩০ নভেম্বরের মধ্যে সব টোটো ও ই-রিক্সাকে নিবন্ধিত না হলে রাস্তা থেকে তুলে দেওয়া হবে। এই নির্দেশের বিরোধিতায় এবার সরব হলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। মঙ্গলবার বিজেপির রাজ্য দফতরে সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি তৃণমূল সরকারের উদ্যোগকে রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ ও অর্থ সংগ্রহের ফাঁদ বলে আক্রমণ শানালেন।
শুভেন্দুর অভিযোগ, রাজ্যের ফাঁকা কোষাগার ভরাতে আর তৃণমূলের সভা-মিছিলে ভিড় টানতে টোটোচালকদের এবার রাজনৈতিক লাগাম পরাতে চাইছে সরকার। তাঁর দাবি, পরিবহণ আইনে টোটোর কোনও স্বতন্ত্র স্বীকৃতি নেই, তাই ‘ই-রিক্সা ও টোটো’ বলে একত্রে উল্লেখ করে চালকদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা হচ্ছে। তিনি মনে করিয়ে দেন, ২০১৮-১৯ সালে পরিবহণমন্ত্রী থাকা অবস্থায় তিনি নিজেই সমীক্ষা করিয়েছিলেন। তখনই টোটোর সংখ্যা ছিল সাড়ে তিন লক্ষ। বর্তমান সময়ে সেই সংখ্যা পৌঁছেছে প্রায় পাঁচ লক্ষে। কুটিরশিল্পের মতো গ্রামাঞ্চলে টোটো তৈরি হয়, মহার্ঘ ই-রিক্সা নয়। তিনি জানান, প্রকৃত লক্ষ্য হল চালকদের আর্থিকভাবে চাপে ফেলা। সরকার নির্ধারিত ফি নিয়েও তোপ দাগেন শুভেন্দু।
রেজিস্ট্রেশনে ১,০০০ টাকা এবং প্রতি মাসে ১০০ টাকা করে আদায় প্রসঙ্গে তাঁর কটাক্ষ, ৮ লক্ষ কোটি ঋণে ডুবে থাকা রাজ্য এখন প্রান্তিক চালকদের পকেট থেকে টাকা তুলতে চাইছে। সামনে নির্বাচনের খরচ সব চালাতে হবে তো! তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, এই নিবন্ধনের আড়ালে টোটোচালকদের রাজনৈতিক কাজে ব্যবহার করার প্রস্তুতি নিচ্ছে শাসক দল। কারণ মিছিল ও সভায় আর স্বতঃস্ফূর্ত জনসমাগম হচ্ছে না।

এর জবাবে সরব হন পরিবহণমন্ত্রী স্নেহাশিস চক্রবর্তী। তাঁর বক্তব্য, রাজ্যের নানা প্রান্তে নিয়ন্ত্রণহীন টোটো চলাচল থেকে ক্রমাগত যানজট, বিশৃঙ্খলা ও দুর্ঘটনার পরিবেশ তৈরি হচ্ছে। তাই ই-রিক্সার পাশাপাশি টোটোকেও অস্থায়ী নিবন্ধনের আওতায় আনা জরুরি, যাতে শৃঙ্খলা ফেরানো যায়। তিনি পাল্টা মন্তব্য করেন, রাজস্বের টাকা জনপরিবহণ খাতে বিনিয়োগই হয়। শুভেন্দুবাবু যে দাবি তুলছেন তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
তবে সরকারি ব্যাখ্যা মানতে নারাজ শুভেন্দু। তিনি সরাসরি টোটোচালকদের উদ্দেশে বার্তা দেন, ‘এক টাকাও দেবেন না। প্রয়োজন হলে বিজেপি পাশে থাকবে। নিবন্ধনের নামে কাউকে ভয় দেখাতে দেব না।’