তৃণমূল নিয়ে বিস্ফোরক ঋজু দত্ত! ‘কমোড বসাতেও টাকা নিত’

Spread the love

Riju comapres TMC’s loss with Pakistan: তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে ঘুরিয়ে পাকিস্তানের তুলনা করলেন ঋজু দত্ত। সেইসঙ্গে তৃণমূল থেকে ছয় বছরের জন্য সাসপেন্ড হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ঘাসফুল শিবিরের বিরুদ্ধে চাকরি চুরি এবং লাগামহীন দুর্নীতির অভিযোগও তুললেন সদ্য প্রাক্তন মুখপাত্র। সংবাদমাধ্যম টিভি লাইন বাংলায় তিনি দাবি করেন, বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির বড়সড় জয়ের পরে কলকাতায় রাস্তায় পা রাখলে যেন মনে হচ্ছে যে পাকিস্তান হেরে গিয়েছে। জিতে গিয়েছে ভারত। কোনওরকম ভয় না পেয়েই মানুষ নিজেদের মন খুলে কথা বলতে পারছেন না বলেও দাবি করেন ঋজু।

‘কমোড থেকে বাড়ির প্ল্যান- সবকিছুর জন্য টাকা নিত তৃণমূল’

সেখানেই থামেননি তৃণমূল থেকে সদ্য সাসপেন্ড হওয়া নেতা। ওই সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঋজু অভিযোগ করেন যে চাকরি চুরির বিষয়টি দিনের আলোর মতো পরিষ্কার। তাই যদি কেউ বলেন যে চাকরি চুরি হয়নি, সেটা মহাপাপ হবে। শুধু তাই নয়, যে কোনও ক্ষেত্রে টাকা তুলত তৃণমূল। কেউ বাড়ির কমোড বসাতে গেলে টাকা চাইত। বাড়ির প্ল্যানে অনুমোদনের জন্য তুলত টাকা। এমন কোনও ক্ষেত্র ছিল না, যেটার জন্য তৃণমূলকে টাকা দিতে হত না।

বিজেপির প্রতি বার্তা ঋজুর

আর সেই মন্তব্যের আগেও তৃণমূলের বিরুদ্ধে মুখ খোলেন ঋজু। বিজেপির বঙ্গজয়ের পরে একটি ভিডিয়োবার্তায় তিনি বলেছিলেন, ‘বিজেপির বিধায়কদের এত ব্যস্ততা, আগামী ৯ তারিখ তাঁদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান রয়েছে। কিন্তু এর মধ্যেও যতজন বিজেপি বিধায়ককে আমি ফোন করেছি। প্রতিটি বিজেপি বিধায়ক যাদের আমি ফোন করেছি, তারা দুটো রিংয়ের মধ্যে আমার ফোন ধরেছে। বিজেপির দিল্লির শীর্ষ নেতৃত্ব এবং বিজেপির বাংলার শীর্ষ নেতৃত্ব, আমাকে ওপেনলি বলেছে, তুমি বুক ফুলিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস করো। তোমার পরিবারের উপরে কোনও আঁচ আসবে না।’

সেইসঙ্গে তিনি বলেছিলেন যে বিজেপি নেতাদের কাছে চিরকৃতজ্ঞ থাকবেন। তাঁর অভিযোগ, তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব তাঁকে সাহায্য করেনি। তবে বিজেপির বিধায়ক রীতেশ তিওয়ারি তাঁকে অভয় দেন। ঋজু বলেছিলে, ‘বিজেপি যে সৌজন্য দেখিয়েছে, বিজেপি যে উদারতা দেখিয়েছে, বিজেপি যে প্রোটেকশন দিয়েছে, যে সহযোগিতা তাঁর সাথে করেছে এই ঋণ আমি জানি না শোধ করতে পারব কিনা।’ পাশাপাশি তিনি অভিযোগ করেছিলেন, তৃণমূলের অনেক নেতা নাকি বিজেপিতে যোগদান করতে চেয়েছেন। এদিকে প্রচারের সময় ব্যক্তিগত আক্রমণ করার জন্যে ক্ষমাও চেয়ে নেন।

সাসপেনশনের পরে ঋজুর বার্তা

সেই ঘটনার পরে তৃণমূলের তরফে তাঁকে ছয় বছরের সাসপেন্ড করে দেওয়া হয়। তা নিয়ে শনিবার ঋজু বলেন, ‘আমার প্রাণপ্রিয় দল। যে দল কে আমার যৌবনের ১৩টা বছর দিয়েছি। নিরন্তর পরিশ্রম করেছি নিজেকে প্রমাণ করার জন্য। শুধুমাত্র নিজের কাজ ও পারফরম্যান্সের জোরে ধাপে ধাপে উপরে উঠেছি — কারণ আমি কোনও নেপো কিড নই। আর আজ আমার প্রিয় দলই আমায় ছয় বছরের জন্য সাসপেন্ড করল! কেন? কারণ আমি সত্যিটা বলেছি। সাসপেনশনের নোটিশে বলা হয়েছে আমি নাকি শৃঙ্খলারক্ষা কমিটির সামনে হাজির হইনি। অথচ নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই আমি ৯ মে সকাল ১১ টা ২৭ মিনিটে পার্টির সদর দফতরে (তৃণমূল ভবন) আমার জবাব জমা দিয়েছি। সম্ভবত আমার জবাব পড়ার আগেই নোটিশটা টাইপ করা হয়ে গিয়েছিল। ধন্যবাদ, অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস! আমি কথা দিচ্ছি – আবার দেখা হবে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *