ভারতীয় রেলওয়েতে চাকরিপ্রার্থীদের জন্য এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ খবর সামনে এসেছে। রেলওয়ে রিক্রুটমেন্ট বোর্ড আসন্ন অ্যাসিস্ট্যান্ট লোকো পাইলট (ALP) নিয়োগ প্রক্রিয়ার মূল্যায়ণ পদ্ধতিতে এক আমূল পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আগে যেখানে চূড়ান্ত মেরিট লিস্ট তৈরিতে মূলত কম্পিউটার ভিত্তিক পরীক্ষার (CBT) ওপর বেশি জোর দেওয়া হত, এখন থেকে সেখানে অ্যাপটিটিউড টেস্ট বা সাইকো টেস্টের গুরুত্ব বহুগুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, এখন থেকে ‘৫০-৫০’ ফর্মুলায় তৈরি হবে মেধাতালিকা।
নতুন ৫০-৫০ ফর্মুলাটি আসলে কী?
এতদিন পর্যন্ত RRB ALP নিয়োগের ক্ষেত্রে চূড়ান্ত মেধাতালিকা তৈরির সময় CBT-2 (পার্ট-এ) থেকে ৭০ শতাংশ নম্বর এবং অ্যাপটিটিউড টেস্ট (CBAT) থেকে ৩০ শতাংশ নম্বর নেওয়া হতো। অর্থাৎ, কোনো পরীক্ষার্থী যদি লিখিত পরীক্ষায় খুব ভালো ফল করতেন, তবে অ্যাপটিটিউড টেস্টে গড়পড়তা নম্বর পেলেও তাঁর চাকরি পাওয়ার সম্ভাবনা থাকত।
তবে ২০২৬-এর নতুন নিয়ম অনুযায়ী, এই ওয়েটেজ সম্পূর্ণ বদলে দেওয়া হয়েছে। এখন থেকে দ্বিতীয় পর্যায়ের লিখিত পরীক্ষা (CBT-2) এবং কম্পিউটার ভিত্তিক অ্যাপটিটিউড টেস্ট (CBAT) — উভয় থেকেই ৫০ শতাংশ করে নম্বর নিয়ে চূড়ান্ত মেরিট লিস্ট তৈরি করা হবে। এর অর্থ হল, এখন থেকে লিখিত পরীক্ষার মতোই সমান গুরুত্ব দিতে হবে অ্যাপটিটিউড টেস্টকে।
কেন এই পরিবর্তন?
রেলওয়ে বোর্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, একজন লোকো পাইলটের কাজ অত্যন্ত দায়িত্বপূর্ণ। ট্রেন চালকদের মানসিক সতর্কতা, উপস্থিত বুদ্ধি এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা যাচাই করা অত্যন্ত জরুরি। অনেক সময় দেখা যায়, প্রার্থীরা লিখিত পরীক্ষায় তাত্ত্বিক জ্ঞানে খুব ভালো হলেও কর্মক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ‘সাইকো-মোটর স্কিল’-এ পিছিয়ে থাকেন। তাই যোগ্যতম এবং মানসিকভাবে সবথেকে সজাগ প্রার্থীদের বেছে নিতেই এই নতুন ভারসাম্য আনা হয়েছে।

পরীক্ষার ধাপ ও প্রস্তুতির কৌশল
১) CBT-1: এটি একটি স্ক্রিনিং টেস্ট, যেখানে প্রাপ্ত নম্বর চূড়ান্ত তালিকায় যোগ হবে না।
২) CBT-2: এর দুটি অংশ থাকে। পার্ট-এ থেকে প্রাপ্ত নম্বরের ৫০ শতাংশ এখন চূড়ান্ত তালিকায় যোগ হবে।
৩) CBAT (Apptitude Test): এর গুরুত্ব এখন অনেক বেশি। চূড়ান্ত তালিকায় এখান থেকেও ৫০ শতাংশ নম্বর নেওয়া হবে।
৪) নথি যাচাই ও মেডিকেল টেস্ট: সবশেষে শারীরিক সক্ষমতা ও নথিপত্র যাচাই।