মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স রোববার তার দুজন প্রিয় ভারতীয় ও পাকিস্তানি ব্যক্তির নাম প্রকাশ করেছেন। তারা হলেন তার স্ত্রী ঊষা ভ্যান্স এবং পাকিস্তানি ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির। সুইজারল্যান্ডে মার্কিন-ইরান আলোচনা শুরুর মধ্যে এমন মন্তব্য করেন ভ্যান্স।সুইজারল্যান্ডের বার্গেনস্টকে লুসার্ন হ্রদের তীরে একটি বিলাসবহুল রিসোর্টের আলোচনা কক্ষে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ভ্যান্স মুনিরের প্রশংসা করেন, যিনি আলোচনাকারী দলগুলোর সঙ্গে দাঁড়িয়ে ছিলেন।
তিনি বলেন, আমি বলব যে, ‘ইসলামাবাদে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ফিল্ড মার্শাল মুনির আমাদের স্বাগত জানানোর পর থেকে আমি মজা করে বলি যে, আমার জীবনে দুজন খুব, খুব গুরুত্বপূর্ণ মানুষ আছেন – একজন ভারতীয় এবং একজন পাকিস্তানি। ভারতীয়টি হলেন আমার স্ত্রী, আর পাকিস্তানি হলেন ফিল্ড মার্শাল মুনির।’
ভ্যান্স জানান যে, গত তিন মাসে তিনি অন্য যে কারো চেয়ে মুনিরের সঙ্গে বেশি কথা বলেছেন।
তার রাষ্ট্রনায়কোচিত গুণ ছাড়া আমি এখানে থাকতাম না। তিনি অবশ্যই একজন মহান সামরিক নেতা, কিন্তু আমার মনে হয় তিনি নিজেকে একজন মহান কূটনীতিক হিসেবেও প্রমাণ করেছেন। এবং অবশ্যই, তিনি একজন অসাধারণ নেতা।
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট আরও বলেছেন যে, কয়েকমাস ধরে চলা যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতে একটি কূটনৈতিক সমাধান খুঁজে পাওয়ায় ওয়াশিংটন কৃতজ্ঞ। তিনি এ সপ্তাহের শুরুতে ইলেকট্রনিকভাবে স্বাক্ষরিত অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তির কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এই পর্যায় থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান কতটা অর্জন করতে পারে, তা এখন দেখার বিষয়।
‘লেক লুসার্ন সামিট’ নামে পরিচিত আলোচনা শুরু হওয়ার সময় সংক্ষিপ্ত মন্তব্যে ভ্যান্স বলেন, এখন আমাদের সামনে প্রশ্ন হলো, আমরা একসাথে আর কতটা অর্জন করতে পারি? আমরা কি নতুন করে শুরু করতে পারি? আমরা কি মধ্যপ্রাচ্যের সম্পর্ক স্থায়ীভাবে পরিবর্তন করতে পারি, নাকি পুরনো পদ্ধতিতে ফিরে যাব, যা আমাদের পছন্দ নয়, কিন্তু এমনটা ঘটা খুবই সম্ভব।

পাকিস্তান ও কাতারের প্রতিনিধিদলসহ মধ্যস্থতাকারীদের উপস্থিতিতে সুইজারল্যান্ডের একটি বিলাসবহুল রিসোর্টে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান তাদের প্রথম দফার আলোচনা শুরু করার প্রেক্ষাপটে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
‘আমরা কূটনীতির মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীলতাকে রূপান্তরিত করতে এবং শান্তি ও তেলের অবাধ প্রবাহকে উৎসাহিত করতে উন্মুখ,’ ইরানের সাথে এই বৈঠককে ঐতিহাসিক আখ্যা দিয়ে ভ্যান্স বলেন।ভ্যান্স আরও উল্লেখ করেন যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান এর আগে কখনও এত উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক করেনি।