দুর্গাপুর গণধর্ষণ কাণ্ডে নতুন মোড়। এবার নিজেই মুখ খুললেন নির্যাতিতা, আর তাঁর জবানবন্দিই পুরো তদন্তের গতিপথ ঘুরিয়ে দিল। হাসপাতালের শয্যায় শুয়ে তিনি পুলিশকে জানান, ঘটনার দিন তিনি স্বেচ্ছায় কলেজ ক্যাম্পাস ছেড়েছিলেন সহপাঠী ওয়াশিফ আলির সঙ্গে। কিন্তু সেই বিশ্বাসই শেষমেশ কাল হয়ে দাঁড়ায়। নির্যাতিতার অভিযোগ, জঙ্গলের নির্জন জায়গায় নিয়ে গিয়ে তাঁর সম্মতি ছাড়াই শারীরিক নির্যাতনের চেষ্টা করে ওই সহপাঠী। বাধা পেয়ে ক্ষিপ্ত হয় সে। ঠিক সেই সময় হঠাৎ সেখানে এসে পড়ে তিন দুষ্কৃতী। তারা মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করতে শুরু করে। পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে সহপাঠী তাঁকে ফেলে পালিয়ে যান।
জবানবন্দিতে নির্যাতিতা আরও জানিয়েছেন, তিনি সম্ভ্রম রক্ষার মরিয়া চেষ্টায় ছুটে পালাতে চেয়েছিলেন। তবু রেহাই মেলেনি। দুষ্কৃতীরা তাঁকে পাকড়াও করে ফেলে এবং তাঁদের একজন নৃশংসভাবে ধর্ষণ করে। পরে আরও দু’জন এসে জড়ো হয় ঘটনাস্থলে। এই পুরো ঘটনার সময় সহপাঠী ওয়াশিফ একবারও তাঁর দিকে ফিরে তাকাননি, সাহায্যের হাত বাড়াননি। এমনটাই দাবি করেছেন নির্যাতিতা।
উল্লেখ্য, ওয়াশিফ আলি মালদহের কালিয়াচকের বাসিন্দা ও একজন ডাক্তারি পড়ুয়া। বুধবার আদালতে তোলা হলে বিচারক তাঁকে সাত দিনের পুলিশ হেফাজতে পাঠান। ঘটনার পর থেকেই নির্যাতিতার বাবা সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন সহপাঠীর ভূমিকা নিয়ে। মেয়ের জবানবন্দি সামনে আসতে তিনি বলেন, তিনি চান মেয়ে বিচার পাক।

এদিকে, তদন্তে নতুন তথ্য যোগ হওয়ায় ঘটনাস্থলের পরিধিও বাড়িয়েছে পুলিশ। জঙ্গলের আরও বিস্তীর্ণ অংশ ঘিরে ফেলা হয়েছে। কারণ নির্যাতিতার বয়ানে উঠে এসেছে ধস্তাধস্তি ও দৌড়ঝাঁপের ইঙ্গিত। পুলিশ মনে করছে, এই ঘটনার অনেক স্তর এখনও অজানা রয়ে গেছে।
জানা গিয়েছে, ওয়াশিফ আলির বাবা আনিসুর রহমান কালিয়াচকের সিলামপুর-১ পঞ্চায়েতের কংগ্রেস সদস্য ছিলেন। এলাকায় তাঁদের পরিবারের প্রভাব ও পরিচিতি কম নয়। দুর্গাপুর কাণ্ডে এটাই প্রথমবার, যখন নির্যাতিতা সরাসরি সহপাঠীর বিরুদ্ধে অভিযোগ তুললেন।