উত্তরবঙ্গের টানা বন্যা, ভূমিধস ও বিপর্যয়ের প্রেক্ষাপটে দার্জিলিঙে প্রশাসনিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নতুন এক সমাধানের পথ দেখালেন। তাঁর পরামর্শ, শুধু বাঁধ বা প্রকল্প নয়, প্রকৃতিকে দিয়েই প্রকৃতির ক্ষত সারাতে হবে। সেই সূত্রেই উঠে এল ম্যানগ্রোভ ও ভেটিভার ঘাস রোপণের পরিকল্পনা। যা মূলত দেখা যায় গঙ্গাসাগর ও সুন্দরবনের মতো নোনা জলের উপকূলে।
বুধবার দার্জিলিঙের প্রশাসনিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, তিনি টাকার অপচয়ে রাজি নন। স্থায়ী সমাধান চান। গঙ্গাসাগরে যেমন লক্ষ লক্ষ ম্যানগ্রোভ লাগিয়ে জমিকে শক্ত করা হয়েছে, তেমনই এবার উত্তরবঙ্গের ক্ষয়ক্ষতিগ্রস্ত মাটিতে গাছের বাঁধ তৈরি করতে হবে। তাঁর মন্তব্যে পরিষ্কার ইঙ্গিত, বছরের পর বছর খরচ করে কংক্রিটের বাঁধ গড়ে লাভ নেই। মাটির ক্ষয় ও ভূমিধস থামাতে তিনি বন দফতরকে সরাসরি নির্দেশ দেন, ম্যানগ্রোভের পাশাপাশি ভেটিভার বসিয়ে পাহাড়ি পৃষ্ঠকে শক্ত করতে হবে।
তবে এই বক্তব্যের পরেই শুরু হয়েছে বিতর্ক। কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার, যিনি নিজে উদ্ভিদবিদ্যায় গবেষক, মুখ্যমন্ত্রীর প্রস্তাবকে বিজ্ঞানসম্মত বলে মনে করেন না। তিনি মন্তব্য করেন, ডুয়ার্সে কিংবা দার্জিলিঙে ম্যানগ্রোভ কীভাবে সম্ভব? ম্যানগ্রোভ নোনা জল ও সামুদ্রিক বদ্বীপের উদ্ভিদ। পাহাড়ি মাটিতে তা জন্মায় না। উনি কি নতুন ভূগোল লিখবেন, নতুন বোটানি লিখবেন? পাশাপাশি তিনি পূর্ববর্তী ভেটিভার প্রকল্প নিয়েও অভিযোগ তোলেন, মালদহে নদীভাঙন রুখতে যে টাকা পাঠানো হয়েছিল, তা উদ্দেশ্যপূর্ণ ভাবে অন্যত্র গিয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

পাহাড়ি অঞ্চলে ম্যানগ্রোভ বসানোর সম্ভাবনা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন পরিবেশ বিশেষজ্ঞরাও। তাঁদের বক্তব্য, ম্যানগ্রোভ ও ভেটিভার মাটিকে সত্যিই শক্ত করে এবং প্রাকৃতিক বাঁধের মতো কাজ করে। বিপর্যয়ের সময় এগুলি ভূমিকে ধরে রাখতে পারে। কিন্তু তিনি সতর্ক করে বলেন, এ ধরনের প্রকল্প দীর্ঘমেয়াদী। শুধু গাছ লাগালেই হবে না, সেগুলি রক্ষা করা এবং মানুষের হাত থেকে বাঁচানো আরও বড় দায়িত্ব। গাছ কেটে ফেলা বা রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে এই উদ্যোগ ব্যর্থ হতে পারে, সেটাই সবচেয়ে বড় আশঙ্কা।