তৃণমূলের বিজয়া সম্মিলনির মঞ্চ এ বার রাজনৈতিক বক্তব্য নয়, অশালীন নাচের জেরে তীব্র বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু। মঙ্গলবার রাতে ভরতপুরের কাঞ্চনগড়িয়া গ্রামে আয়োজিত এই অনুষ্ঠান শেষ পর্যন্ত বিশৃঙ্খলার কারণে থমকে যায়। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছয় যে, নিজেই লজ্জায় মাথা নিচু করে মঞ্চ ছেড়ে চলে যান ভরতপুরের তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবীর।
জানা যাচ্ছে, বিকেল সাড়ে চারটায় শুরু হয়েছিল বিজয়া সম্মেলন। সন্ধ্যা গড়িয়ে নিজের ভাষণে মঞ্চ মাতান বিধায়ক। জেলা সভাপতি অপূর্ব সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে হুমায়ুন কবীর জানান, তাঁর কর্মীদের সভায় আসতে বাধা দেওয়া হয়েছে। স্পষ্ট হুঁশিয়ারি, তাঁকে কচলালে, মাথা ভেঙে চুরমার করে দেবেন। ইঞ্চিতে ইঞ্চিতে বদলা নেবেন। সেই বক্তব্যে হাততালি ও উল্লাসে ফেটে পড়ে ভিড়। কিন্তু তার পরেই যে দৃশ্য তৈরি হয়, তা কার্যত তৃণমূলের সভাকে নিয়ে যায় বিতর্কের কেন্দ্রে।
মাইকে বারবার ঘোষণা হচ্ছিল, বীরভূমের ইউটিউবার সফিকের প্রোগ্রাম আসছে। সেই ঘোষণার মুহূর্তে জনতা আরও গিজগিজ করতে শুরু করে। কয়েক মিনিটের মধ্যেই শৃঙ্খলা ভেঙে পড়ে। পুলিশ হিমশিম ক্ষয় পরিস্থিতি সামাল দিতে। এর মধ্যে শুরু হয় মূল ‘শো’ মঞ্চে ওঠেন এক তরুণী। শুরু হয় চটুল ও অশালীন নাচ। সামনে বসে থাকা বিধায়ক হুমায়ুন কবীর স্পষ্ট অস্বস্তিতে মাথা নত করেন, এবং কিছু না বলে মঞ্চ থেকে নেমে সরাসরি বাড়ির উদ্দেশে চলে যান।

বিধায়কের বিদায়ের পরই আরও বেসামাল পরিস্থিতি। রাস্তা বন্ধ হয়ে পড়ে ভরতপুর-লোহাদহ গ্রামীণ সড়ক। দর্শকদের হুড়োহুড়িতে আটকে যায় একটি গাড়ি, যাতে ছিলঅসুস্থ এক শিশুকন্যা। বাধ্য হয়ে ভরতপুর থানার ওসি শিবনাথ মণ্ডলের হস্তক্ষেপে শেষমেশ অনুষ্ঠান বন্ধ করতে বাধ্য হন আয়োজকরা। ঘটনার পর বিধায়ক বলেন, ‘এই ধরনের নাচ হবে, তা জানতাম না। জানলে থাকতামই না। লজ্জায় মাথা তুলতে পারছি না।’ এই ঘটনার পর গোটা এলাকায় নিন্দার ঝড়। স্থানীয় এক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ক্ষোভে বলেন, এমন অশালীনতা রাজনৈতিক মঞ্চে মেনে নেওয়া যায় না। মানুষের সামনে আর মুখ দেখানোর জায়গা নেই।