ধর্ষণকাণ্ডে সরকারকে বিঁধে ‘যোগী মডেলে’র পক্ষে সওয়াল শুভেন্দুর

Spread the love

‘অভিযুক্তকে জমা নিয়েই খরচ করা উচিত।’ একের পর এক ধর্ষণকাণ্ডের রাজ্য সরকারকে বিঁধে উত্তরপ্রদেশ মডেলের পক্ষে সওয়াল করলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি চান, পশ্চিমবঙ্গও অনুসরণ করুক উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের মডেলের শাস্তিকে।অর্থাৎ, ধর্ষণের মতো অভিযোগে অভিযুক্তদের গ্রেফতারের পরই ‘এনকাউন্টার’ করার দরকার বলে মনে করেন বিরোধী দলনেতা।

দুর্গাপুরে এক বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের পড়ুয়া সন্ধেবেলা ক্যাম্পাসের বাইরে খাবার খেতে বেরিয়ে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ। এই ঘটনায় এখন তোলপাড় গোটা বাংলা। এদিকে, জলপাইগুড়ির রাজগঞ্জেও এক ষাটোর্ধ্ব ব্যক্তির বিরুদ্ধে নাবালিকাকে ধর্ষণের অভিযোগে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। এই সব ঘটনায় অভিযুক্তেরা যাতে পার না পান, তা খেয়াল রাখতে হবে রাজ্য সরকারকে, এমনই বোঝালেন শুভেন্দু অধিকারী। তাই ‘খরচের’ নিদান দিয়েছেন তিনি।শনিবার সাংবাদিক বৈঠকে প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত রাজ্যের একের পর এক ধর্ষণকাণ্ড নিয়ে সরকারকে নিশানা করেছেন তিনি। একই সঙ্গে রাজ্যে ঘটা এই সব ঘটনায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিবৃতিও দাবি করেছেন। রাজ্যের বিরোধী দলনেতার কথায়, ‘জলপাইগুড়ির রাজগঞ্জের বানিয়াপুর এলাকায় বছর দুই আগে একটি মেয়ের ধর্ষণ হয়। সেই ঘটনায় অভিযুক্তের ফাঁসির সাজা দেওয়া হয়। কিন্তু তা এখনও কার্যকর হয়নি।’ এরপরেই শুভেন্দু ‘যোগী-মডেলে’র প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘কিছু হলেই তো পুলিশের তরফে সাংবাদিক বৈঠক করা হয়। কিন্তু এই ঘটনাগুলির ক্ষেত্রে তাঁদের কোনও ভূমিকা থাকে না। এদের তো জমা করার সঙ্গে সঙ্গে খরচ করে ফেলার কথা।’ শুভেন্দুর সাফ কথা, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী না করা পর্যন্ত এই ঘটনা কমবে না।

দুর্গাপুরের ঘটনা প্রসঙ্গে বিরোধী দলনেতা দাবি করেন, ‘এই দুই ঘটনায় ছেড়ে কথা বলব না।’ রাজ্যে ঘটা নারী নির্যাতনের ঘটনার প্রতিবাদে বিজেপি ‘বৃহত্তর আন্দোলন’-এর পথে হাঁটবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি। শুভেন্দু অধিকারীর কথায়, ‘পশ্চিমবঙ্গে সবচেয়ে বড় সমস্যা নারী নির্যাতন। কসবা ঘটনার পর আমরা রাজ্যে ১৪টি কন‍্যা সুরক্ষা যাত্রা করেছি।’ এবারও নানা ধরনের প্রতিবাদ কর্মসূচির করা হবে বলে জানান তিনি। তিনি আরও জানান, ‘যোগী, (দেবেন্দ্র) ফডণবীস, হিমন্ত (বিশ্বশর্মা), চন্দ্রবাবুর (নায়ডু) মতো সক্রিয় পদক্ষেপ করতে হবে।’ শুভেন্দুর আরও অভিযোগ, পুলিশের মা-স্ত্রীরাও এই রাজ্যে সুরক্ষিত নন। নাম না করে অনুব্রত মণ্ডলের কু-কথা প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্রীকে নিশানা করেন তিনি। তাঁর কথায়, ‘এখানে পুলিশের মা-স্ত্রীরা সুরক্ষিত নন। বোলপুরের ঘটনা তার প্রমাণ। ওই ঘটনার পর বীরভূম গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী তাঁর (অনুব্রত) নিরাপত্তা বাড়িয়ে দিয়ে এসেছেন চার জন থেকে নিরাপত্তারক্ষী ২২ জন হয়েছে। জেলা আহ্বায়কও করা হয়েছে।’ তবে ‘এনকাউন্টার’ তত্ত্ব এখন শুভেন্দু অধিকারী একা বলছেন এমনটা নয়। এর আগে আর জি করের ঘটনার সময়ও এই দাবি উঠেছিল। তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও এই নিয়ে কথা বলেছিলেন। জয়নগরের ধর্ষণকাণ্ডের পর ঘাটালের তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ দেবও একই সুরে সুর চড়িয়েছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *