চিন ও পাকিস্তান সীমান্ত বরাবর আকাশসীমায় নিম্ন উচ্চতায় নজরদারির জন্য ভারতীয় সেনাবাহিনী উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ নিয়েছে। সাম্প্রতিককালে পাকিস্তান সীমান্তে বারংবার ড্রোনের দেখা মিলছে। এই আবহে সীমান্ত বরাবর এয়ার কম্যান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টার গড়ে তোলা হচ্ছে। এই কেন্দ্রগুলি শত্রুপক্ষের ড্রোনের ওপর নজরদারি চালাবে। তাছাড়াও সীমান্তের ভিতরে অন্য দেশের ড্রোন চলে এলে তা নিষ্ক্রিয় করার দায়িত্ব থাকবে এই কেন্দ্রগুলির ওপর। ৩৫ কিলোমিটার দূরত্ব থেকে ৩ কিলোমিটার উচ্চতায় উড়ে যাওয়া সমস্ত বস্তু এখন এয়ার কম্যান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টারের নজরে পড়বে।
এই পরিকল্পনার অধীনে, ওয়েস্টার্ন থিয়েটারে ১০ হাজার ড্রোন পরিচালনা করার ক্ষমতা তৈরি করা হচ্ছে। প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখার ৩৪৮৮ কিলোমিটার এলাকায় ২০ হাজারেরও বেশি ড্রোন মোতায়েন করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এছাড়াও সীমান্তে দুটি রকেট ফোর্স ইউনিট, দুটি রুদ্র ব্রিগেড এবং ২১ ভৈরব ব্যাটালিয়ন মোতায়েন করেছে সেনাবাহিনী। ভারতীয় আর্টিলারি পরিসীমা ১৫০ কিলোমিটার থেকে ১০০০ কিমি পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে, জম্মু ও কাশ্মীর এবং সীমান্ত রেখা বরাবর পাকিস্তান নিয়মিত ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারি ও অনুপ্রবেশের প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। এই ড্রোনগুলি ঠেকাতে ভারতীয় বাহিনী সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। পাকিস্তান প্রধানত নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি শাহপার-২ ও শাহপার-৩ এবং তুরস্কের বয়রক্তর বিটি২ ড্রোন ব্যবহার করছে এই সব ক্ষেত্রে। এই ড্রোনগুলি মূলত নজরদারি, হামলা এবং গোয়েন্দা তথ্যের জন্য ব্যবহৃত হয়। আবার অনেক সময় অস্ত্র, গোলাবারুদ বা মাদক পাচারের জন্যেও ব্যবহৃত হয় এই সব ড্রোন। চলতি বছরের প্রথম ২০ দিনেই অন্তত পাঁচবার ভারতের সীমান্তে দেখা যায় পাকিস্তানি ড্রোন। এই ড্রোনগুলি চিহ্নিত করে গুলি করে তা ধ্বংস করছে ভারত। সাম্বা, রাজৌরি এবং পুঞ্চ জেলার আন্তর্জাতিক সীমান্ত এবং নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর এলাকায় এই সব ড্রোন বেশি নজরে পড়ছে।
