ফিলিস্তিনের অধিকৃত পশ্চিম তীরজুড়ে বিভিন্ন স্থানে ইসরাইলি সেটেলার তথা অবৈধ বসতি স্থাপনকারীদের হামলায় অন্তত ৫৪ জন ফিলিস্তিনি আহত হয়েছেন। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, আজ শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) ইসরাইলি বাহিনীর উপস্থিতি ও সুরক্ষায় বিভিন্ন এলাকায় একযোগে হামলা চালানো হয়েছে।
আল জাজিরার প্রতিবেদন মতে, পশ্চিম তীরের দক্ষিণ নাবলুসের তালফিত ও কুসরার কাছে বসতি স্থাপনকারীরা ফিলিস্তিনিদের লক্ষ্য করে গুলি ও টিয়ার গ্যাস ছোড়ে। এতে অন্তত একজন গুলিবিদ্ধ হন। অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমের উত্তর-পূর্বে মিখমাস শহরের কাছে খিল্লেত আস-সাদরাহ এলাকায়ও হামলা চালায় অবৈধ বসতি স্থাপনকারীরা।এদিকে রামাল্লাহর কাছে তুরমুস আয়্যায় প্রায় ৩০০টি জলপাই গাছ কেটে ফেলা হয়েছে এবং কৃষিজমি বুলডোজার দিয়ে নষ্ট করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। একই সময়ে ইসরাইলি সেনারা গ্রামে বাড়িতে বাড়িতে অভিযান চালিয়ে একাধিক ব্যক্তিকে আটক করে।এছাড়া একই অঞ্চলের দেইর গাসানেহ ও বেইত রিমা এলাকাতেও সামরিক অভিযান চালানো হয়। জেনিনের আশপাশের জাবা’, সিরিস ও মেইথালুনসহ বেশ কয়েকটি শহরেও বাহিনী অভিযান চালিয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে পশ্চিম তীরে উত্তেজনা বাড়ছে। বসতি সম্প্রসারণ, অভিযান ও সহিংসতার ঘটনায় হতাহত ও সম্পদহানির সংখ্যা বাড়তে থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ আরও তীব্র হয়েছে।
পশ্চিম তীরে ওফার কারাগার পরিদর্শনে ইতামার বেন-গভির
সেটেলারদের হামলা ও চলমান উত্তেজনার মধ্যেই এদিন রামাল্লাহর কাছে অবস্থিত ওফার কারাগার পরিদর্শন করেন ইসরাইলের কট্টর ডানপন্থি জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির।
পরিদর্শনকালে তিনি ফিলিস্তিনি বন্দিদের ওপর আরোপিত কড়াকড়ি নীতির প্রশংসা করেন। এই নীতির আওতায় কারাগারে বিভিন্ন সুবিধা সীমিত করা হয়েছে বলে জানা গেছে। বেন-গভির দাবি করেন, তার নেতৃত্বেই এসব বিধিনিষেধ কার্যকর করা হয়েছে।

কারাগার নীতিতে কঠোরতা আরোপের বিষয়টি ইসরাইলি রাজনীতিতে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো আগে থেকেই ফিলিস্তিনি বন্দিদের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে আসছে।