পুজোর আগে চিনির দামে বড় স্বস্তি! পাইকারি দর বেঁধে দিল রাজ্য

Spread the love

উৎসবের মরশুমের আগে সাধারণ মানুষের জন্য বড় স্বস্তির খবর। বাড়তে থাকা চিনির দাম নিয়ন্ত্রণে এবার সরাসরি বাজারে হস্তক্ষেপ করল রাজ্য সরকার। পাইকারি বাজারে চিনির সর্বোচ্চ দাম কেজি প্রতি ৫০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। সরকারের আশা, এর প্রভাব আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই খুচরো বাজারে পড়বে। তখন কেজি প্রতি চিনি ৫৩ থেকে ৫৫ টাকার মধ্যে পাওয়া যেতে পারে।

গত কয়েক মাস ধরে লাগাতার বেড়েছে চিনির দাম। খুচরো বাজারে বর্তমানে কেজি প্রতি প্রায় ৭০ টাকা পর্যন্ত দরে চিনি বিক্রি হচ্ছে। ফলে মধ্যবিত্ত পরিবারের রান্নাঘরে তার সরাসরি প্রভাব পড়েছে। পুজোর আগে মিষ্টি তৈরির খরচও বেড়েছে। উৎসবের মরশুমে চাহিদা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা ছিল। সেই পরিস্থিতিতেই দাম নিয়ন্ত্রণে সক্রিয় হয়েছে কৃষি বিপণন দপ্তর।

রাজ্যের কৃষি বিপণনমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ জানিয়েছেন, গত এক মাস ধরে দেশ ও রাজ্যে চিনির দাম বাড়ছিল। সেই বৃদ্ধি ঠেকাতে পোস্তা বাজার মার্চেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে একাধিক দফায় বৈঠক করা হয়। ৩, ৫ এবং ১১ সেপ্টেম্বর ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করেন সরকারি আধিকারিকরা। বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ বজায় রাখা এবং অযথা দাম বাড়ানো বন্ধ করাই ছিল বৈঠকের মূল লক্ষ্য।

শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত হয়েছে, পাইকারি বাজারে চিনির দর সর্বোচ্চ ৫০ টাকা প্রতি কেজি রাখা হবে। খুচরো বাজারে পরিবহণ ও অন্যান্য খরচ যোগ হয়ে আরও ২ থেকে ৫ টাকা বাড়তে পারে। সেই হিসেবে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে সাধারণ মানুষের হাতে ৫৩ থেকে ৫৫ টাকার মধ্যে চিনি পৌঁছনোর সম্ভাবনা রয়েছে।

সরকার জানিয়েছে, এই নির্ধারিত দাম অন্তত তিন মাস অপরিবর্তিত রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। অর্থাৎ পুজো থেকে শুরু করে পরবর্তী উৎসবের মরশুমেও চিনির দামের উপর নজর থাকবে। ব্যবসায়ীদের যাতে নির্ধারিত দামে চিনি বাজারে আনতে সমস্যা না হয়, সেজন্য রাজ্য সরকার লজিস্টিক সহায়তাও দেবে।

এর অংশ হিসেবে ডানকুনি রেক পয়েন্ট থেকে ৫০ কিলোমিটারের মধ্যে থাকা সরকারি নিয়ন্ত্রিত বাজার কমিটির গোডাউনে চিনি খালাসের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। পরে এই চিনি সুফল বাংলা স্টল এবং রেগুলেটেড মার্কেট কমিটির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে বিক্রি করা হবে। পুজোর আগেই সুফল বাংলা স্টলেও চিনি পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছে কৃষি বিপণন দপ্তর।

সরকারি আধিকারিকরা নিয়মিত বাজার পরিদর্শন করবেন এবং পাইকারি ও খুচরো—দুই স্তরেই দাম পর্যবেক্ষণ করবেন। কোথাও কৃত্রিমভাবে দাম বাড়ানো হচ্ছে কি না, মজুত করে রাখা হচ্ছে কি না, সেদিকেও নজর থাকবে। সরকারের লক্ষ্য, উৎসবের সময়ে বাড়তি চাহিদার সুযোগ নিয়ে কেউ যাতে বাজার অস্থির করতে না পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *