US-Bangladesh: বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করলেন ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোর। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক বিশেষ দূতেরও দায়িত্ব সামলান সার্জিও গোর। তাঁর তিন দিনের এই বাংলাদেশ সফরকে ঘিরে কূটনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশে সাম্প্রতিক ভূরাজনৈতিক পরিবর্তন, চিনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব, রোহিঙ্গা সংকট এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের নিরাপত্তা- এই চারটি বিষয়ই সফরের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকতে পারে।
শনিবার সকাল সাড়ে ৯টায় তেজগাঁওয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে দুই নেতার বৈঠক হয় বলে জানিয়েছেন তারেক রহমানের উপ প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি। তিনি বলেন, ‘বৈঠকে বাংলাদেশ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, আঞ্চলিক সহযোগিতা এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।’ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের বিদেশ প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর বিদেশবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তাঁর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন ও বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন।
অন্যদিকে, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা শেষে এক্স হ্যান্ডেলে এক বিশেষ বার্তায় নিজের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন সার্জিও গোর। তিনি বলেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক মেলবন্ধন জোরদারের অপার সম্ভাবনাময় ক্ষেত্রগুলো নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। ওয়াশিংটনের বিদেশ নীতিতে বাংলাদেশকে একটি অগ্রাধিকারমূলক বন্ধু রাষ্ট্র হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে জানিয়ে তিনি জোর দিয়ে বলেন, পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে দুই দেশ ইতিবাচক ও বাস্তবমুখী ফলাফল অর্জনে সমর্থ হবে। এর আগে শুক্রবার বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী ঢাকায় মার্কিন দূত সার্জিও গোরের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেছেন। এই বৈঠক দক্ষিণ এশিয়ার বর্তমান রাজনৈতিক ও কৌশলগত পরিস্থিতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। দুই দেশের কূটনীতিকদের মধ্যে এই আলোচনা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা, নিরাপত্তা ও দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছে। সূত্রের খবর অনুযায়ী বাংলাদেশ থেকে পরিচালিত সন্ত্রাস দমন নিয়েও আলোচনা হয় এই বৈঠকে।

দীনেশ ত্রিবেদী এই বৈঠকের পর বলেন, ‘ভারত মার্কিন ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বাংলাদেশের উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতায় সহায়ক হবে। আমরা সবসময় বাংলাদেশের জনগণের পাশে আছি।’ সার্জিও গোরও বৈঠককে ফলপ্রসূ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তি ও সমৃদ্ধির জন্য ভারতের সঙ্গে আমাদের সমন্বয় অত্যন্ত জরুরি। বাংলাদেশ এই অঞ্চলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।’ গত ৩০ জুলাই ঢাকায় পৌঁছান সার্জিও গোর। সফরের প্রথম দিনে তিনি বাংলাদেশের বিদেশ মন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেন। শুধু তাই নয়, শুক্রবার তিনি কক্সবাজারের উখিয়ায় রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবির পরিদর্শন করেছেন । তিনি আশ্রয়শিবিরের বিভিন্ন মানবিক ও সেবামূলক কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাঁদের বর্তমান পরিস্থিতির খোঁজখবর নেন। সার্জিও গোরের বাংলাদেশ সফরের প্রেক্ষাপট বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে তাৎপর্যপূর্ণ। বাংলাদেশে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর আঞ্চলিক শক্তিগুলোর মধ্যে কূটনৈতিক তৎপরতা বেড়েছে। ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র উভয়েই বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ককে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। বিশেষ করে অর্থনৈতিক সহযোগিতা, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় ত্রিপাক্ষিক আলোচনা ভবিষ্যতে আরও জোরদার হতে পারে।