পথটা কম ছিল না। অপেক্ষা করতে হয়েছে ১৭ বছর। অবশেষে বাংলাদেশে ফিরলেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার পুত্র তথা বিএনপি-র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ভোটের মুখে, প্রবল রাজনৈতিক টানাপড়েনের আবহে ‘ডার্ক প্রিন্স’ তারেকের এই ফিরে আসায় স্বাভাবিক ভাবেই উজ্জীবিত বিএনপি শিবির। কিন্তু খালেদা-পুত্রকে ঘিরে এত উন্মাদনার মধ্যেও সব মহলে এখন একটাই প্রশ্ন, বাংলাদেশকে কী তিনি ঐক্যবদ্ধ করতে পারবেন? আর এই প্রশ্নের মধ্যেই খালি পায়ে দেশের মাটি স্পর্শ করেই তারেক রহমান বার্তা দিলেন, ‘আমরা এক নিরাপদ বাংলাদেশ গড়তে চাই।’
নিরাপদ বাংলাদেশ
বৃহস্পতিবার সকাল ১১টা ৪৩ মিনিটে বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি-২০২ নম্বর ফ্লাইট ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। সপরিবারে দেশে ফিরেই আবেগঘন হয়ে পড়েন তারেক রহমান। বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জে পৌঁছনোর সঙ্গে সঙ্গেই তারেক রহমানকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও আলিঙ্গনে স্বাগত জানান বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব। বিমানবন্দরে অবস্থানকালীন সময়েই ফোনে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূসের সঙ্গে কথা বলেন তারেক। বিমানবন্দর ত্যাগের আগে এক প্রতীকী মুহূর্তে খালি পায়ে ঘাসে দাঁড়িয়ে দেশের মাটি স্পর্শ করেন তারেক রহমান। হাতে তুলে নেন একমুঠো মাটি। এরপর পূর্বাচলে ৩০০ ফিট এলাকায় গণসংবর্ধনায় জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণে তারেক রহমান বলেন, ‘সবাই মিলে এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলবো আমরা, যে বাংলাদেশের স্বপ্ন একজন মা দেখেন। অর্থাৎ একটি নিরাপদ বাংলাদেশ আমরা গড়ে তুলতে চাই। যে বাংলাদেশে একজন নারী, একজন পুরুষ, একজন শিশু- যেই হোক না কেন নিরাপদে ঘর থেকে বের হলে যেন নিরাপদে আবার ঘরে ফিরে আসতে পারে।’
বাংলাদেশের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা
বিএনপি কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশ্যে তারেক রহমান বলেন, ‘৭১ সালে এই দেশ যেমন স্বাধীনতা অর্জন করেছিল, ২০২৪ সালে এই দেশের ছাত্র, জনতা, নারী, পুরুষ, দলমত নির্বিশেষে ২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট বাংলাদেশের স্বাধীনতা রক্ষা করেছিল। আজ বাংলাদেশের মানুষ গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরে পেতে চায়। এই দেশে সব ধর্মের মানুষ বাস করেন। একটি নিরাপদ বাংলাদেশ আমরা গড়ে তুলতে চাই।’ একই সঙ্গে যে কোনও উসকানির মুখে ধীর-শান্ত থাকতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। খালেদা-পুত্র বলেন, ‘যে সব জাতীয় নেতারা এ মঞ্চে আছেন; যারা মঞ্চের বাইরে আছেন; আমরা সকলে মিলে এ দেশকে নেতৃত্ব দিয়ে জনগণের প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই। যে কোনও মূল্যে আমাদের এ দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা করতে হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘যে কোনও উসকানির মুখে আমাদের ধীর-শান্ত থাকতে হবে। আমরা দেশে শান্তি চাই; আমরা দেশে শান্তি চাই; আমরা দেশে শান্তি চাই। যে কোনও মূল্যে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঠিক রাখতে হবে। কোনও ভাবেই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে দেওয়া যাবে না।’

নতুন পরিকল্পনা
এরপরেই তারেক রহমান বাংলাদেশকে নিয়ে তার নতুন পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘মার্টিন লুথার কিংয়ের একটি বিখ্যাত উক্তি আছে- আই হ্যাভ এ ড্রিম। তাঁর সেই উক্তিকে অনুসরণ করে বলতে চাই, আই হ্যাভ এ প্ল্যান। বাংলাদেশ ও বাংলাদেশের মানুষকে নিয়ে বিএনপি এবং আমার পরিকল্পনা আছে।’ তিনি বলেন, ‘আজ এই পরিকল্পনা দেশের মানুষের স্বার্থে, দেশের উন্নয়নের জন্য, দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তনের জন্য। যদি সেই প্ল্যান, সেই কার্যক্রম, সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হয় প্রত্যেকের সহযোগিতা আমার প্রয়োজন।’ তিনি বলেন, ‘আমার সঙ্গে আজ মঞ্চে এখানে বহু জাতীয় নেতৃত্ব বসে আছেন। আসুন আজ আমরা দুহাত তুলে প্রার্থনা করি। যেসব জাতীয় নেতা এই মঞ্চে আছেন, মঞ্চের বাইরে যেসব জাতীয় আরও নেতা আছেন, আমরা সবাই মিলে এই দেশকে নেতৃত্ব দিয়ে আমাদের বাংলাদেশের জনগণের প্রত্যাশিত সেই বাংলাদেশকে আমরা গড়ে তুলতে চাই।’