বাংলার ২ মৎস্যজীবী ২ বছর ধরে বন্দি পাক জেলে

Spread the love

দু’বছর ধরে ঘরের ছেলের ঘরে ফেরার অপেক্ষা করছে এক পরিবার। বসিরহাটের দুই ভাই লাল্টু দাস ও সুজয় দাস, দু বছর ধরে বন্দি রয়েছেন পাকিস্তানের জেলে। ২০২২ সালের ডিসেম্বরে কেরলে মাছ ধরতে গিয়ে ট্রলার ভেসে চলছিল গুজরাট উপকূল ধরে। তখনই অজান্তেই আন্তর্জাতিক জলসীমা অতিক্রম করে ঢুকে পড়ে পাকিস্তানের সীমানায়। সেই মুহূর্তেই পাক মেরিন সিকিউরিটি ফোর্স ধরে ফেলে পুরো ট্রলারসহ ভারতীয় মৎস্যজীবীদের। সেই সঙ্গে বন্দি হন লাল্টু ও সুজয়। তখন থেকেই পাক জেলে বন্দি দুই ভাই।

বসিরহাট ২ ব্লকের চাঁপাপুকুর গ্রাম পঞ্চায়েতের মোমিনপুরের বাড়িতে তখন থেকেই অপেক্ষা আর উৎকণ্ঠায় কাটছে দিনরাত। দারিদ্র্য জর্জরিত পরিবার জীবিকার আশায় পাঠিয়েছিল দুই ভাইকে সমুদ্রে। কিন্তু, এখন পাকিস্তানের জেলে বন্দি। জানা যাচ্ছে, প্রথমদিকে ক’বার ফোন ও চিঠির মাধ্যমে যোগাযোগ করেছিলেন তাঁরা। আট মাস আগে শেষবার ভিডিয়ো কলে দেখা হয়েছিল পরিবারের সঙ্গে। তারপর থেকে আর যোগাযোগ হয়নি।

পরিবারের সদস্যেরা জানিয়েছেন, ট্রলারের মৎসজীবীরা সেদিন মাঝরাতে ঘুমিয়ে ছিলেন। অন্ধকারে স্রোতে ভেসে পাকিস্তানের জলসীমায় ঢুকে পড়ে ট্রলার। ধরা পড়েন সবাই। ক’মাস আগে দিল্লি পুলিশ এসে দুই ভাইয়ের নথিপত্র, পরিচয় ও যাবতীয় তথ্য সংগ্রহ করে গেছে। আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল বিদেশ মন্ত্রকের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়ার। কিন্তু এখনও কিছুই হয়নি।

মা প্রতিমা দাসের কাতর আর্তি, তাঁদের ফিরিয়ে আনুন। ছেলেরা কোনও অপরাধী নয়। কাজ করতে গিয়ে ফেঁসে গেছে। ঘরের দরজার পাশে বসে প্রতিদিন পথ চেয়ে থাকেন তিনি। সংসারের হাল ধরেছে বোন ও আত্মীয়েরা। কিন্তু মন পড়ে আছে সীমানার ওপারে বন্দি দুই প্রিয়জনের কাছে। বসিরহাট উত্তরের বিধায়ক রফিকুল ইসলামও বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন। তিনি জানান, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে কথা বলে বিদেশ মন্ত্রকের সহায়তায় দুই মৎস্যজীবীকে দেশে ফেরানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *