দুর্গাপুর ধর্ষণকাণ্ডে ধৃত নির্যাতিতার সহপাঠীর ঘর থেকে পাওয়া গেল একাধিক অব্যবহৃত কন্ডোম। এদিকে জঙ্গলের যেখানে সেই ছাত্রীর ওপর নির্যাতন চালানো হয়েছিল, সেখানেও একটি অব্যবহৃত কন্ডোম পাওয়া গিয়েছে। এই আবহে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। এদিকে ধৃত সেই সহপাঠী ওয়াশিফ আলিকে টানা জেরা করে চলেছে পুলিশ। রিপোর্টে দাবি করা হচ্ছে, সেই পড়ুয়ার বয়ানে একাধিক অসঙ্গতি ধরা পড়েছে। নির্যাতিতার সঙ্গে তাঁর বক্তব্যে ফারাক থাকছে। এদিকে যে জঙ্গলে এই ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছিল, সেখানে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল ধৃত পড়ুয়াকে।
পুলিশ জানিয়েছে, ধৃত ছাত্রের ঘর থেকে মিলেছে ১১টি অব্যবহৃত কন্ডোম। এদিকে একটি কন্ডোম পাওয়া গিয়েছে জঙ্গল থেকে। এই আবহে জঙ্গলে পাওয়া সেই কন্ডোম কি ওয়াশিফ আলির? তা নিয়ে তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ। উল্লেখ্য, প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, নির্যাতিতার সহপাঠী ১২টি কন্ডোমের একটি প্যাকেট কিনেছিলেন। পুলিশ বলছে তারা ফরেনসিক পরীক্ষার রিপোর্ট হাতে পেলে বিষয়টা কিছুটা স্পষ্ট হবে। পুলিশ অবশ্য নিশ্চিত, নির্যাতিতার সহপাঠীই তাঁকে জঙ্গলে নিয়ে গিয়েছিল। তদন্তে নতুন তথ্য যোগ হওয়ায় ঘটনাস্থলের পরিধিও বাড়িয়েছে পুলিশ। জঙ্গলের আরও বিস্তীর্ণ অংশ ঘিরে ফেলা হয়েছে।
ধৃত সহপাঠী মালদার বাসিন্দা। জানা গিয়েছে, ওয়াশিফ আলির বাবা আনিসুর রহমান কালিয়াচকের সিলামপুর-১ পঞ্চায়েতের কংগ্রেস সদস্য ছিলেন। এদিকে নির্যাতিতা তরুণী ওড়িশার জলেশ্বরের বাসিন্দা। এদিকে এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় আরও গ্রেফতার হয়েছে – শেখ সফিকুল, শেখ নাসিরুদ্দিন, অপু বাউরি, ফিরদৌস শেখ এবং শেখ রিয়াজউদ্দিন।
রিপোর্ট অনুযায়ী, নির্যাতিতা নিজের জবানবন্দিতে জানিয়েছেন, ঘটনার দিন তিনি স্বেচ্ছায় কলেজ ক্যাম্পাস ছেড়েছিলেন সহপাঠী ওয়াশিফ আলির সঙ্গে। নির্যাতিতার অভিযোগ, জঙ্গলের নির্জন জায়গায় নিয়ে গিয়ে তাঁর সম্মতি ছাড়াই শারীরিক নির্যাতনের চেষ্টা করে ওই সহপাঠী। সেই সময় তিনজন সেখানে এসে পৌঁছায়। তারা মোটা টাকা দাবি করে। এই আবহে ওয়াশিফ তাঁকে ফেলে সেখান থেকে পালিয়ে যায়। এরপর সেই ছাত্রীও পালানোর চেষ্টা করে। তবে সেখানে আগত তিনজন তাকে ধরে ফেলে এবং তাদের মধ্যে একজন তাকে ধর্ষণ করে। আর এই পুরো ঘটনার সময় সহপাঠী ওয়াশিফ একবারও তাঁর দিকে ফিরে তাকাননি, সাহায্যের হাত বাড়াননি।

এদিকে সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গিয়েছে, গত ১০ অক্টোবর নির্যাতিতা এবং তাঁর সহপাঠী ক্যম্পাস ছেড়েছিলেন ৭টা ৫৪ মিনিটে। এরপর সেই সহপাঠী ক্যাম্পাসে ফিরে আসে রাত ৮টা ৪২ মিনিটে এবং ৮টা ৪৮ মিনিটে সেই সহপাঠী ফের ক্যাম্পস ছেড়ে চলে যান। তারপর সেই নির্যাতিতাকে নিয়ে সহপাঠী ফের ক্যম্পাসে ঢোকেন রাত ৯টা ২৯ মিনিটে। প্রথমে নির্যাতিতা এবং সহপাঠী দাবি করেছিলেন, তাঁরা ডিনার করতে ক্যাম্পাসের বাইরে গিয়েছিলেন।