সামনে কালীপুজো, তার পর ছট এবং জগদ্ধাত্রী পুজো। টানা উৎসবের মধ্যেই সারা রাজ্যজুড়ে জমে উঠবে জনসমাগম। আর সেই সময়ে অগ্নি-নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রস্তুতি নিচ্ছে দমকল দফতর। বৃহস্পতিবার নিউটাউনের অ্যাকশন এরিয়া ১-এর অগ্নিনির্বাপন দফতরে প্রায় সব জেলার আধিকারিকদের নিয়ে জরুরি বৈঠকে বসেন রাজ্যের দমকল মন্ত্রী সুজিত বসু। উৎসবের দিনগুলিতে অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা, নজরদারি এবং জরুরি সাড়া দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তর আলোচনা হয় সেখানে।
মন্ত্রী জানান, বর্তমানে রাজ্যে ১৬৬টি স্থায়ী ফায়ার স্টেশন চালু রয়েছে। তার পাশাপাশি কালীপুজো, ছট ও জগদ্ধাত্রী পুজো উপলক্ষে আরও ৫১টি অস্থায়ী দমকল কেন্দ্র গড়ে তোলা হবে। বিশেষ করে চন্দননগর, বারাসত, কৃষ্ণনগর, নৈহাটি ও বিভিন্ন বাজি বাজার এলাকায় এই অস্থায়ী স্টেশন স্থাপনের কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। বাড়তি চাপ সামলাতে প্রস্তুত রাখা হবে মোটরসাইকেল ইউনিটও, যাতে ভিড়বহুল গলিপথে দ্রুত পৌঁছনো যায়। আসন্ন ২০ অক্টোবর কালীপুজোকে কেন্দ্র করে ১৯ তারিখ থেকেই ময়দানে নামছেন দমকল কর্মীরা। মন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন, ওই দিন থেকেই রাস্তায় থাকবে বিশেষ টহল দল, নজরদারি বাড়ানো হবে বাজি বাজার ও ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায়। দুর্ঘটনা এড়াতে সতর্কতামূলক প্রচারও চালানো হবে।
তিনি আরও জানান, কালীপুজো মিটতেই শুরু হবে ছট পুজোর প্রস্তুতি। নদীঘাট ও পুজো মণ্ডপগুলিতে চলবে কড়া নজরদারি, বাড়তি কর্মী মোতায়েন করা হবে ক্যাম্পগুলিতে। জগদ্ধাত্রী পুজোকেও সমান গুরুত্ব দিচ্ছে দমকল দফতর। বিশেষ করে চন্দননগরে চারদিন ধরে চলা এই উৎসব দুর্গাপুজোর মতোই ভিড় টানে। সেখানে বাড়তি ফায়ার টেন্ডার, মোবাইল ইউনিট এবং জরুরি টিম রাখা হবে। কলকাতা সহ আশপাশের শহরগুলিতেও বিশেষ নজরদারি চালানো হবে বলে জানান মন্ত্রী সুজিত বসু। তাঁর কথায়, মানুষ যাতে নির্বিঘ্নে আনন্দ করতে পারেন, কোনও দুর্ঘটনা বা অনিচ্ছাকৃত পরিস্থিতি যেন সৃষ্টি না হয়, সেটাই দফতরের অগ্রাধিকার।
