ওড়িশায় বাঙালিদের উপরে অত্যাচারের যে অভিযোগ উঠেছে, তা নিয়ে পথে নামল জাতীয় বাংলা সম্মেলন। ওড়িশার মালকানগিরি থেকে বাঙালিদের একাংশকে বিতাড়ন করার অভিযোগ উঠেছে। তার প্রতিবাদেই মঙ্গলবার ধর্মতলা থেকে মিছিল শুরু হয়। উৎকল ভবন পর্যন্ত যায় মিছিল। সেখানে উৎকল ভবনের অধিকর্তার হাতে স্মারকলিপি তুলে দেওয়া হয়। বিষয়টি নিয়ে জাতীয় বাংলা সম্মেলনের সভাপতি সিদ্ধব্রত দাস বলেছেন, ‘আমরা ওড়িশার বিজেপি সরকারকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিতে চাই – বাঙালিরা দুর্বল নয়। অবিলম্বে মালকানগিরি-সহ ওড়িশার প্রতিটি প্রান্তে বাঙালিদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে হবে এবং এই বিদ্বেষমূলক প্রোফাইলিং বন্ধ করতে হবে।’
সেইসঙ্গে তিনি বলেছেন, ‘যদি ওড়িশা প্রশাসন এবং সেখানকার ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকার অবিলম্বে এই বর্বরোচিত আক্রমণ বন্ধ না করে এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না দেয়, তবে আমরা বৃহত্তর গণআন্দোলনের পথে হাঁটতে বাধ্য হব। ওড়িশা সরকারের এই ব্যর্থতা এবং বাঙালি-বিদ্বেষী মনোভাবের বিরুদ্ধে আমাদের সংগ্রাম চলবে।’
জাতীয় বাংলা সম্মেলনের তরফে দাবি করা হয়েছে, ওড়িশার বিজেপি সরকার এবং তাদের মদতপুষ্ট কয়েকটি উগ্র সাম্প্রদায়িক সংগঠন রাজনৈতিক স্বার্থে বাঙালিদের ‘বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী’ তকমা দিচ্ছে। বৈধ ভারতীয় নথিপত্র থাকা সত্ত্বেও বাঙালি শ্রমিক ও সাধারণ নাগরিকদের হেনস্থা করা হচ্ছে। এটি কেবল আইনশৃঙ্খলার অবনতি নয়, বরং এটি বাঙালিদের বিরুদ্ধে একটি সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র।
আর মালকানগিরি ঘটনার প্রেক্ষিতে সিদ্ধব্রত বলেন, ‘মালকানগিরি জেলার এমভি ২৬ (MV 26) গ্রামে যা ঘটছে, তা সভ্য সমাজে অকল্পনীয়। ১৯৫৮ সাল থেকে এই অঞ্চলে বাঙালির বাস। বর্তমানে, সেটলার কলোনিগুলো থেকে বাঙালিদের উৎখাত করতে বিজেপি সরকারের পুলিশ প্রশাসন মৌন দর্শকের ভূমিকা পালন করছে। আজ এমভি ২৬ গ্রাম পুরুষশূন্য, মা-বোনেরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। পুনর্বাসিত ভারতীয় নাগরিকদের জমি ও ভিটে থেকে উচ্ছেদ করার এই অপচেষ্টা আমরা বরদাস্ত করব না।’
