শনিবার বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হল। কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন শুভেন্দু অধিকারী। এর মধ্য দিয়েই রাজ্যে প্রতিষ্ঠা পেতে চলেছে বিজেপির প্রথম সরকার এবং কার্যত শুরু হচ্ছে ‘ডবল ইঞ্জিন’ প্রশাসনের পথচলা। আর নতুন সরকার গঠনের আগেই কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে বাংলার জন্য বড় আর্থিক বার্তা এল। জানা গিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা জল জীবন মিশনের টাকা এবার রাজ্যের হাতে আসতে চলেছে। শুধু তাই নয়, কেন্দ্রের একাধিক প্রকল্প নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে প্রশাসনিক স্তরে। রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে এই পদক্ষেপকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
জল জীবন মিশনের বকেয়া নিয়ে বড় আপডেট
জল-জীবন-মিশন প্রকল্পে কেন্দ্রের থেকে ২৭০০ কোটি টাকা পেতে চলেছে রাজ্য। কেন্দ্রীয় জলশক্তি মন্ত্রকের সচিবের সঙ্গে বৈঠক হবে রাজ্যের জনস্বাস্থ্য ও কারিগরি দফতরের সচিবের। দীর্ঘদিন ধরে জল-জীবন-মিশনের কেন্দ্রীয় বরাদ্দ বন্ধ রাজ্যে। রাজ্যের সঙ্গে একটি মৌ স্বাক্ষর হবে খুব শীঘ্রই। তারপরেই এই বকেয়া বরাদ্দ দেওয়া হবে রাজ্যকে। ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় জলশক্তি মন্ত্রকের সচিব রাজ্যকে টাকা দেওয়ার ব্যাপারে জানিয়েছেন বলে নবান্ন সূত্রে খবর। কত বকেয়া রয়েছে? বাড়িতে বাড়িতে জলের সংযোগ কত দেওয়া হয়েছে? তা নিয়ে ইতিমধ্যই রিপোর্ট পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে কেন্দ্রীয় জলশক্তি মন্ত্রককে। গত প্রায় দু’বছর ধরে এই প্রকল্পের টাকা আটকে ছিল। বাড়ি বাড়ি পানীয় জল পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় এই প্রকল্প চালু থাকলেও বরাদ্দ না মেলায় কাজের গতি অনেকটাই প্রভাবিত হয়েছিল বলে প্রশাসনিক সূত্রের দাবি। এবার নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়ার মধ্যেই সেই বকেয়া অর্থ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
রাজ্য প্রশাসন সূত্রে খবর, চুক্তির খসড়া বর্তমানে খতিয়ে দেখার কাজ চলছে। খুব দ্রুত এই আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সেরে ফেলে বকেয়া টাকা আদায় করতে তৎপর রাজ্য সরকার। সব কিছু ঠিকঠাক চললে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই রাজ্যের কোষাগারে এই অর্থ চলে আসবে এবং থমকে থাকা কাজগুলো ফের গতি পাবে বলে আশাবাদী প্রশাসনিক মহল। উল্লেখ্য, গত দেড় বছরেরও বেশি সময় ধরে জলজীবন মিশন প্রকল্পে কেন্দ্রীয় বরাদ্দ পুরোপুরি বন্ধ ছিল পশ্চিমবঙ্গে। দেশের প্রতিটি গ্রামীণ পরিবারে নলবাহিত পরিশ্রুত পানীয় জলের সংযোগ পৌঁছে দেওয়াই ছিল কেন্দ্রের এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য। কিন্তু প্রশাসনিক, পদ্ধতিগত এবং নানা রাজনৈতিক জটিলতায় গত ১৮ মাস ধরে এই খাতের টাকা পায়নি রাজ্য। ফলস্বরূপ, রাজ্যের জনস্বাস্থ্য কারিগরি দফতরের বহু প্রকল্পের কাজ মাঝপথেই থমকে গিয়েছিল।

স্বাস্থ্য খাতে বড় বদল: আসছে আয়ুষ্মান ভারত
শুধু জল জীবন মিশন নয়, রাজ্যে আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প চালু নিয়েও তৎপরতা শুরু হয়েছে। ফলে আর্থিক বরাদ্দের পাশাপাশি রাজ্যে স্বাস্থ্য পরিষেবায় বড় পরিবর্তন আসতে চলেছে। সূত্রের খবর, ন্যাশনাল হেলথ অথরিটি ইতিমধ্যেই রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরের সঙ্গে প্রাথমিক বৈঠক সেরে ফেলেছে। এর ফলে রাজ্যের বর্তমান স্বাস্থ্য প্রকল্পের সঙ্গে কেন্দ্রীয় বিমা প্রকল্পের সংযুক্তি বা বড়সড় রদবদল ঘটতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। বলেভরাখা ভালো, রাজ্যে নতুন সরকার শপথের পরেই প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকে আয়ুষ্মান ভারত কার্যকর করা হবে বলে ইতিমধ্যই ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী। তাকে মাথায় রেখেই এবার রাজ্য প্রশাসন এর প্রস্তুতি শুরু বলেই নবান্ন সূত্রে খবর।