বিধ্বস্ত নেপালে নিখোঁজ বাংলার ৩০ বেশি পর্যটক! ফরাক্কায় বাড়ছে গঙ্গার জলস্তর

Spread the love

Nepal Flash Flood: নেপাল সীমান্তে তিব্বত সংলগ্ন অঞ্চলে ঘটে যাওয়া এক ভয়াবহ আকস্মিক হড়পা বানে (Nepal Flash Flood) লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে বিস্তীর্ণ এলাকা। ইতিমধ্যে বিধ্বস্ত নেপালের পাশে দাঁড়িয়েছে নয়াদিল্লিও। এবার নেপালের ভয়াবহ হড়পা বানের প্রভাব সরাসরি এসে পড়ল বাংলায়। ফরাক্কা ব্যারেজে গঙ্গার জলস্তর ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, নদীর জল বিপদসীমার প্রায় তিন ফুট উপর দিয়ে বইছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হু হু করে জল বাড়ায় নদী তীরবর্তী এলাকার মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। এদিকে, নেপালে ভয়াবহ বিপর্যয়ের পর থেকেই যোগাযোগ করা যাচ্ছে না কলকাতা-সহ এ রাজ্যের বহু পর্যটকের সঙ্গে।

 

নেপালে হড়পা বানের প্রভাব রাজ্যে

ফরাক্কা ব্যারেজ কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবারের তুলনায় বৃহস্পতিবার দুপুরে আপস্ট্রিম ও ডাউনস্ট্রিমে জলস্তর বেশ কিছুটা বেড়েছে। এদিন দুপুরে ব্যারেজের আপ স্ট্রীমে জলস্তর ছিল ৭৬.৬০ ফুট। ডাউন স্ট্রীমে জলস্তর ছিল ৭৫.২০ ফুট। কিন্তু বুধবার এই জলস্তর ছিল আপ স্ট্রীমে ৭৬.৩৫ ফুট এবং ডাউন স্ট্রীমে ৭৪.৮০ ফুট। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় শুধু ডাউন স্ট্রীমেই জলস্তর বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় ০.৪০ ফুট। এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে আগামী ২৪ ঘণ্টায় অবস্থা আরও ভয়াবহ হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এদিকে, হু হু করে জলস্রোত বাড়তেই ব্যারাজের আশেপাশে থাকা বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়। শুধু তাই নয়, বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের স্তরেও চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে মুর্শিদাবাদ জেলা প্রশাসন আগেভাগেই সতর্কতামূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

ফরাক্কার বিডিও সুজয় ব্যাপারীর নেতৃত্বে গঙ্গা তীরবর্তী ফরাক্কা, সামসেরগঞ্জ, ধুলিয়ান-সহ নিচু এলাকাগুলিতে সতর্ক নজরদারি চালানো হচ্ছে। মাইকিং করে সাধারণ মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি, মৎস্যজীবীদের নদীতে নামতে কড়া নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে এবং বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরকে সম্পূর্ণ প্রস্তুত রাখা হয়েছে। যদিও গোটা পরিস্থিতির উপর প্রশাসনের তরফে কড়া নজর রাখা হচ্ছে।

নেপালে নিখোঁজ বাংলার পর্যটকরা

অন্যদিকে, নেপালে হড়পায় নিখোঁজ রয়েছেন বাংলার বহু পর্যটক। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত রাজ্যের ৩০ জনের বেশি পর্যটকের সঙ্গে কোনও যোগাযোগ করা সম্ভব হচ্ছে না। কৈলাস-মানস সরোবর যাত্রা এবং নেপাল ভ্রমণের উদ্দেশ্যে যাওয়া এই পর্যটকদের পরিবারগুলিতে এখন চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। নিখোঁজদের তালিকায় রয়েছেন বিশিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব প্রয়াত মুকুল রায়ের পুত্রবধূ শর্মিষ্ঠা ভৌমিক রায়। গত ২১ অগাস্ট একটি ট্রাভেল এজেন্সির সঙ্গে নেপালে গিয়েছিলেন তিনি। স্বামী শুভ্রাংশু রায় জানিয়েছেন, বুধবার থেকে তাঁর সঙ্গে আর কোনও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

নতুন ছবির শুটিং করতে নেপালে গিয়ে বিপাকে পড়েছেন অভিনেতা খরাজ মুখোপাধ্যায়। নেপালের চিন সীমান্তঘেঁষা রাসুয়া জেলায় ভয়াবহ হড়পা বানের জেরে আটকে পড়েছেন তাঁরা। খরাজের সঙ্গে রয়েছেন তাঁর স্ত্রী প্রতিভা মুখোপাধ্যায়। এছাড়া কলকাতা, কসবা, নাকতলা, দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুর, পশ্চিম বর্ধমানের দুর্গাপুর, উত্তর ২৪ পরগনার বারাসত ও বসিরহাট, হুগলির তারকেশ্বর এবং শিলিগুড়ির কয়েকজন পর্যটকও এই নিখোঁজ তালিকার অন্তর্ভুক্ত। জানা গিয়েছে, ভ্রমণ দলটি কাঠমান্ডু (Kathmandu) পৌঁছে পশুপতিনাথ মন্দির দর্শনের পর কেরুং এলাকার দিকে রওনা দিয়েছিল। বুধবার ভোটে কোশী (Bhote Koshi) নদীতে ভয়াবহ হড়পা নামার পর থেকেই তিব্বত সীমান্ত ও সংলগ্ন এলাকার সঙ্গে সমস্ত যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। বহু পর্যটকের মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় প্রিয়জনদের সুস্থতার অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন পরিবারগুলো। ইতিমধ্যে শিলিগুড়ির নিখোঁজ পর্যটক সমর মণ্ডলের দাদা ভাইয়ের খোঁজে কাঠমান্ডুর উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন। প্রশাসন ও ভ্রমণ সংস্থাগুলির পক্ষ থেকে নিখোঁজদের সন্ধানে তৎপরতা শুরু হলেও এখনও পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট কোনও খবর মেলেনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *