বিরিয়ানি খাওয়াই কাল হল! প্রেমিকের সাহায্যে ঘুমন্ত স্বামীকে খুন স্ত্রীর

Spread the love

অন্ধ্রপ্রদেশের গুন্টুর জেলায় হাড়হিম ঘটনা। স্বামীকে খাওয়ানোর জন্য বিরিয়ানি রান্না করেছিলেন। সেটিকে মিশিয়ে দেওয়া হয়েছিল ঘুমের ওষুধের গুঁড়ো। আর সেই বিরিয়ানি খেয়ে ঘুমিয়ে পড়তেই প্রেমিকের সাহায্যে স্বামীকে শ্বাসরোধ করে খুনের অভিযোগ উঠল স্ত্রীর বিরুদ্ধে। প্রাথমিকভাবে এটিকে একটি স্বাভাবিক মৃত্যু হিসেবে দেখানো হলেও, ফরেনসিক পরীক্ষার পর জানা যায় যে ওই ব্যক্তি শ্বাসরোধে মারা গিয়েছেন এবং এর ফলে দুই সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, এই অদ্ভুত ঘটনাটি গুন্টুরের চিলুভুরু গ্রামে ঘটেছে। মৃতের নাম লোকাম শিবনাগারাজু। তাঁকে স্ত্রী লক্ষ্মী মাধুরী এবং তাঁর প্রেমিক গোপী মিলে খুন করেছে। অপরাধটি সংঘটিত হওয়ার আগে থেকেই মাধুরী বহুদিন ধরেই গোপীর সঙ্গে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে জড়িত ছিলেন। ঘটনার রাতে মাধুরী ঘুমের ওষুধের গুঁড়ো মেশানো বিরিয়ানি তৈরি করে তাঁর স্বামীকে খেতে দেয়। শিবনাগারাজু খাবারটি খেয়ে গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন হয়ে পড়লে, মাধুরী গোপীকে বাড়িতে ডেকে আনেন। এরপর তাঁরা দু’জন মিলে শিবনাগারাজুর মুখের উপর একটি বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরোধ করে তাঁকে হত্যা করেন। এই নিজের কৃতকর্মের পরে মাধুরী গ্রামবাসীদের কাছে হত্যাকাণ্ডটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন।

ভোরের দিকে তিনি চিৎকার করে প্রতিবেশীদের ডাকেন এবং তাঁর স্বামীর আকস্মিক মৃত্যুর খবর জানান। তিনি সকলকে জানান যে তাঁর স্বামী হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গিয়েছেন। শিভানাগারাজুর বাবা ও বন্ধুরা মৃতদেহ পরীক্ষা করে আঘাতের চিহ্ন ও রক্তের দাগ দেখতে পান। এরপরেই তাঁদের সন্দেহ জাগে। তাঁরা স্থানীয় থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। যার ফলে তদন্ত শুরু হয়। ময়নাতদন্তে তদন্তকারীরা নিশ্চিত হন যে শ্বাসরোধ এবং বুকের আঘাতের ফলেই মৃত্যু হয়েছে। এরপর মাধুরী ও গোপীকে আটক করা হয়। তদন্তের একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বেরিয়ে আসে মাধুরীর মোবাইল ফোনের ফরেনসিক পরীক্ষার সময়। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, মাধুরী সারারাত তাঁর স্বামীর মৃতদেহের পাশে বসে পর্নোগ্রাফিক ভিডিও দেখছিলেন। পুলিশের একটানা জেরায় ভেঙে পড়েন মাধুরী। তিনি নিজের অপরাধ স্বীকার করেছেন। পুলিশ তিনি পূর্ণাঙ্গ স্বীকারোক্তি দিয়েছেন এবং গোপীর সঙ্গে মিলে হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে নিজের জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, মামলাটির আরও তদন্ত চলছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *