বিষাক্ত ক্যাপসুল বিলিয়ে ১৫ হাজার মানুষকে হত্যার ছক

Spread the love

মুম্বাইয়ে মহররমের শোকযাত্রাকে লক্ষ্য করে ভয়াবহ নাশকতার পরিকল্পনা ভণ্ডুল করেছে পুলিশ। বিষাক্ত জিঙ্ক ফসফাইড মিশিয়ে হাজারো মানুষের মধ্যে ক্যাপসুল বিতরণের অভিযোগে এক যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, অভিযুক্তের লক্ষ্য ছিল অন্তত ১৫ হাজার মানুষকে হত্যা করা।

পবিত্র আশুরা উপলক্ষে ভারতের বিভিন্ন স্থানে তাজিয়া মিছিলে অংশ নেয় মুসলিম সম্প্রদায়ের হাজার হাজার মানুষ। সবাই যখন এসব নিয়ে ব্যতিব্যস্ত তখন ভিড়ের মধ্যে মিশে যান এক যুবক। উদ্দেশ্য বিষাক্ত ক্যাপসুল খাইয়ে হাজারো মানুষকে হত্যা।

 

শুনতে সিনেমার স্ক্রিপ্টের মতো মনে হলেও ভারতে ঘটেছে এমন রোমহর্ষক ঘটনা। গেল শুক্রবার (২৬ জুন) বাণিজ্যিক নগরী মুম্বাইয়ের বাইকুল্লা এলাকায় মহররম ঘিরে আশুরার শোকযাত্রায় অংশ নেয়া মানুষের মধ্যে বিষাক্ত ক্যাপসুল বিলি করার সময় ফাইয়াজ প্রেমজি নামের এক যুবককে হাতেনাতে আটক করা হয়। ওই ব্যক্তি ব্যথানাশক ও রোগপ্রতিরোধক ওষুধ বলে ক্যাপসুলগুলো বিতরণ করছিলেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
মুম্বাই পুলিশের দাবি, আটককৃত ব্যক্তির কাছ থেকে প্রায় ১৫ হাজার ক্যাপসুল উদ্ধার করা হয়। এছাড়া অভিযুক্ত ব্যক্তি আরও ৩০ হাজার খালি ক্যাপসুল এবং ৫০ কেজি ফসফরাস অর্ডার দিয়েছিল। ওই ক্যাপসুলে অত্যন্ত বিষাক্ত রাসায়নিক জিঙ্ক ফসফাইড মেশানো ছিল। যা বিষাক্ত ফসফিন গ্যাস তৈরির মাধ্যমে হৃদ্‌যন্ত্র, ফুসফুস, যকৃত, কিডনি ও মস্তিষ্কের মারাত্মক ক্ষতি করে থাকে।
 
এরই মধ্যে ওই ক্যাপসুল সেবনের পর অন্তত ১১ জন অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তবে সবাই বর্তমানে আশঙ্কামুক্ত বলে জানা গেছে।
 
ঘটনার সময় তিন নারী স্বেচ্ছাসেবকের উপস্থিত বুদ্ধির কারণে বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তাদের একজন অভিযুক্তের আচরণ সন্দেহজনক মনে হলে অন্যদের সতর্ক করেন এবং দ্রুত পুলিশকে খবর দেন। একই সময়ে লাউডস্পিকারে ঘোষণা দিয়ে উপস্থিত মানুষকে ওই ক্যাপসুল গ্রহণ না করার অনুরোধ জানানো হয়।
স্থানীয় আদালত শনিবার অভিযুক্তকে দুই দিনের পুলিশ হেফাজতে পাঠিয়েছেন। তার বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১২৩ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। 
 
জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত অন্তত ১৫ হাজার মানুষকে হত্যার উদ্দেশ্য ছিল বলে স্বীকার করেছেন বলে দাবি পুলিশের। একইসঙ্গে তদন্তে তার ইরান ও ইরাক সফরের তথ্যও উঠে এসেছে। এ ঘটনায় বিষ প্রয়োগের অভিযোগে মামলা করা হয়েছে। পাশাপাশি এর পেছনে কোনো জঙ্গি সম্পৃক্ততা আছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *